‘রাষ্ট্রের ক্রান্তিকালে আমি দায়িত্ব পাচ্ছি’

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৩
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে আবদুল হামিদের স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৩ পাওয়া উপলক্ষে সংসদ সচিবালয় আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সহযোগিতা চান। রাষ্ট্রপতি বলেন, এমন একটা সময় আমি দায়িত্ব পাচ্ছি, যখন রাষ্ট্রের জন্য ক্রান্তিকাল। কীভাবে ইজ্জতের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবো সেটা আমি জানি না। ইজ্জতের সঙ্গে যাতে দায়িত্ব পালন করতে পারি এবং বিদায় নিতে পারি, সেজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি। আবদুল হামিদ বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ সাহেব এখানে আছেন। আমি আশা করবো তিনি আমাকে উপদেশ-পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করবেন। এছাড়া এখানে অনেক যোগ্য ব্যক্তি আছেন, তারাও আমাকে সহযোগিতা করবেন বলে আমি আশা করি। বক্তব্যের শুরুতে আবদুল হমিদ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি রুমালে চোখ মুছতে মুছতে বলেন, এই সংসদে আমি ৪২ বছর কাটিয়েছি। আজকের দিনটা আমার জন্য বিষাদের। যেখানেই থাকি, মন এখানেই থাকবে। আপনাদের সকলকে বিদায় জানানো আমার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি হয়তো বঙ্গভবনেই থাকবো। তবে অন্য রাষ্ট্রপতির চেয়ে আমি বেশি সংসদে আসবো। আব্দুল হামিদ বলেন, প্রত্যন্ত হাওর এলাকার নিছক একটি কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসেছি। এটি আমার কল্পনার বাইরে যে ওই স্থান থেকে আমি বর্তমান অবস্থানে (রাষ্ট্রপতি) উঠে আসতে সক্ষম হবো। সংসদে দুই মেয়াদে স্পিকারের দায়িত্ব পালনকারী আবদুল হামিদ বলেন, এ সময় সকল সংসদীয় কার্যক্রম একটি সিস্টেমের অধীনে নিয়ে আসতে তার পর্যায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি সত্যি আমি সংসদকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করতে সক্ষম হইনি, তবে আজ আমি দাবি করতে পারি যে সংসদ বর্তমানে ৭৫ ভাগ দুর্নীতিমুক্ত। তার আগে এইচ এম এরশাদ বলেন, আমরা সবাই একটা সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। সামনে অন্ধকার। নির্বাচন ছাড়া সরকার পরিবর্তন হয় না। নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ, আপনি সবাইকে ডাকুন, সবাই মিলে আলোচনা করে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করি, আলোর সন্ধান করি। এরশাদ তার প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে আবদুল হামিদকে মনোনয়ন দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সংসদীয় কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপতি সকলের ঐক্যের প্রতীক। আবদুল হামিদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে সব দলের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। আবদুল হামিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার জীবনের অর্ধেক সময় কেটেছে লন্ডনে। ১৯৯৬ সালে যখন দেশে ফিরি তখন কিছুই চিনতাম না। আবদুল হামিদ তখন আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আবদুল হামিদ তার নিজের নির্বাচনী এলাকায় সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রেখে রাজনীতিতে একটি চমত্কার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি হবার মতো তিনিই একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি। মঈন উদ্দিন খান বাদল বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক ধাপ অতিক্রম করে আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। তিনি বলেন, আবদুল হামিদ দেশের রাজনীতির প্রতীক হিসেবে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার শওকত আলী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।