টানা ৩৬ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিনের শেষে ব্রিফিংয়ে বিএনপি বলেছে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অব্যাহত গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে গোটা দেশ আজ বিক্ষোভে উত্তাল। দেশের মানুষ জনবিচ্ছিন্ন সরকারের অপশাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তির প্রতীক্ষায় প্রহর গুণছে। সরকারের বিরুদ্ধে গণবিপ্ল¬ব আজ অত্যাসন্ন। গতকাল দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু ব্রিফিংয়ে বলেন, নির্বাচনের পরই নির্ধারিত হবে কারা জেলে যাবেন। তিনি বলেন, অনিবার্য গণরোষের হাত থেকে বাঁচতে সরকার ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশল গ্রহণ করছে। আমরা মনে করি, বিরোধী দল ও মতকে দমন করতেই সরকার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরাসরি গুলিবর্ষণ ও গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার যতই নির্যাতন ও দমন-পীড়নের পথে চলুক না কেন, দুঃশাসনের ফলস্বরূপ তারা অচিরেই ষড়যন্ত্রের চোরাবালিতে তলিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ করতেই হবে। না হলে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন করার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে। বিএনপির সব নেতাকে জেলে নেয়া হবে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের এমন বক্তব্যের জবাবে দুদু বলেন, ‘নির্বাচনের পরই নির্ধারিত হবে কারা জেলে যাবে। যারা গত চার বছরে দেশে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তাদেরকেই জেলে যেতে হবে।’ হাসান মাহমুদকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আপনাদেরও জেলে যাওয়া লাগতে পারে। তাই জেলখানায় আরাম-আয়েশ এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করুন।
আবদুল হামিদ এডভোকেট রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন। বিএনপি তাকে কীভাবে সহযোগিতা করবে এমন প্রশ্নের জবাবে দুদু বলেন, রাষ্ট্রপতি শপথ নেয়ার পর এ বিষয়ে কথা বলবে বিএনপি।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি কখনোই জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কর্মসূচি দিতে চায় না। হরতালে মানুষের কিছুটা দুর্ভোগ হয়। কিন্তু নিজেদের খানিকটা অসুবিধা হলেও জনস্বার্থে যেকোনো কর্মসূচি মানুষ সমর্থন করে।’ তিনি জানান, গতকালের হরতালে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে ৬ নেতা-কর্মীকে ও জরিমানা করা হয়েছে ২ নেতা-কর্মীকে। ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে গ্রেফতার ১৭০ জনের বেশি নেত-কর্মী। আহত হয়েছে ২৯০ জনের বেশি নেতা-কর্মী। হরতালকে কেন্দ করে গতকাল সারাদেশে ৫০০ জনের বেশি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদু বলেন, আওয়ামী সরকার বিএনপির মত একটি বৃহত্ রাজনৈতিক দলকে সমূলে নিশ্চিহ্ন করার ব্যর্থ অপপ্রয়াসে লিপ্ত। সরকার বাকশালী কায়দায় দেশ শাসন করার উদ্দেশ্যে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বানোয়াট মামলা দিয়ে আদালতকে দলীয়ভাবে ব্যবহার করে অসংখ্য নেতা-কর্মীকে কারাগারে নিক্ষেপের এক মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, সজ্জন ব্যক্তিত্ব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে জেলে আটক রেখেছে। সরকারের নিপীড়নের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দ।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, আব্দুল লতিফ জনি, নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন জসিম, বেলাল আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সম্পাদক প্রফেসর আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
