মানবতাবিরোধী অপরাধ

আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মোবারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৪
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মো. মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তার বিরুদ্ধে হত্যা, আটক, নির্যাতন ও অপহরণের ঘটনায় পৃথক পাঁচটি অভিযোগ গঠন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আগামী ১৬ মে দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত দিনের আগে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষকে সাক্ষীর তালিকা জমা দিতে বলেছে ট্রাইব্যুনাল। প্রসঙ্গত, এই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দশম ব্যক্তি হিসেবে মোবারক হোসেনের বিচার শুরু হচ্ছে। তিনি বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন। মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো হল:১৯৭১ সালের ২৩ আগস্ট আখাউড়া থানাধীন টানমান্দাইল ও জাঙ্গাইল গ্রামে ৩৩ জনকে হত্যা, আনন্দময়ী কালীবাড়ী রাজাকার ক্যাম্পে আশুরঞ্জন দেবকে নির্যাতন, ছাতিয়ানা গ্রামের শহীদ আবদুল খালেককে হত্যা, শ্যামপুর গ্রামের দুইজনকে অপহরণের পর একজনকে হত্যা এবং খড়মপুর গ্রামের একজনকে আটক রেখে নির্যাতন। ১৯৭১ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে অপরাধগুলো সংঘঠিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলো পড়ার সময় মোবারক হোসেন ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। তিনি দোষী না নির্দোষ- আদালত জানতে চাইলে মোবারক হোসেন নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, এ মামলায় তার গ্রামের কেউ সাক্ষ্য দিলে এবং তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে আপিল করবেন না। গত ১০ এপ্রিল মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন চেয়ে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সৈয়দ হায়দার আলী। পরদিন অভিযোগ গঠনের বিপক্ষে শুনানি করেন আসামির আইনজীবী এএইচএম আহসানুল হক হেনা। এসব অভিযোগকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করে মোবারককে অব্যাহতি দেয়ার আহবান জানান। জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার নয়াদিল গ্রামের সাদত আলীর ছেলে মোবারক হোসেন মুক্তিযুদ্ধের পর জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন পর্যায়ের সদস্য (রুকন) ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং দীর্ঘ ১৬ বছর দলটির স্থানীয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয় বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে। একাত্তরে ছাতিয়ানা গ্রামের আবদুল খালেককে হত্যার ঘটনায় তার মেয়ে খোদেজা বেগম ২০০৯ সালের ৩ মে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় মোবারক হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করলে হাইকোর্ট প্রথমে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিলেও পরে নিম্ন আদালত তাকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেয়। ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর মোবারক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে স্থানীয় আদালত জানায়, মোবারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তার জামিনের এখতিয়ার এখন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের। গত বছরের ১১ জুলাই ট্রাইব্যুনালে তার জামিন আবেদনের শুনানি হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ১৬ জুলাই তাকে জামিন দেয় ট্রাইব্যুনাল। এরপর কয়েক দফা তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। এদিকে একই সময়ে মোবারকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। ৬ মাস তদন্তের পর গত ২৪ জানুয়ারি মোট ৪টি ভলিউমে ২৯৪ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন রাষ্ট্রপক্ষের কাছে দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মোবারকের বিরুদ্ধে ৩৩ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ১২ মার্চ অভিযোগ আমলে নিয়ে মোবারকের জামিন বাতিল করে তাকে জেলহাজতে পাঠায় ট্রাইব্যুনাল। মোবারকের বিরুদ্ধে ২১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে বলে জানা গেছে।