ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে বেআইনিভাবে কোটি কোটি রুপি আমানত সংগ্রহকারী সংস্থা সারদা গ্রুপের চেয়ারম্যান সুদীপ্ত সেন গতকাল মঙ্গলবার দুই সহযোগীসহ কাশ্মীরে ধরা পড়েছেন। সারদা গ্রুপের বিরুদ্ধে গতকালও পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষোভ ও অফিস ভাংচুর করা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে সারদা গ্রুপের এজেন্ট ও বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ ও অফিস ভাংচুর করে। সমস্ত অর্থ হারিয়ে কেউ কেউ আত্মহত্যা করে। খবর বিবিসি ও এনডিটিভির।
অস্বাভাবিকহারে লভ্যাংশ দেয়ার লোভ দিয়ে কয়েক লাখ আমানতকারীর কাছ থেকে জমা নেয়া কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্ করার অভিযোগ উঠেছে সারদা গ্রুপের বিরুদ্ধে। এখন তারা জানে না জমা দেয়া অর্থ ফেরত পাবে কিনা। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে সারদা গ্রুপের প্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে ওই সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও করছেন আমানতকারী ও এজেন্টরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার দলের কারও জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, এধরনের ভুঁইফোঁড় আর্থিক সংস্থাগুলো বাম আমলেই ব্যবসা শুরু করেছিল। সারদা গ্রুপের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে তদন্ত কমিশন কাজ করছে। কী পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে তা বের করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাও তদন্ত করছে। সারদা গ্রুপ অল্প সময়ে অস্বাভাবিক বেশি সুবিধা দেয়ার প্রলোভন দিয়ে কয়েক লাখ লোকের কাছ থেকে কোটি কোটি রুপি অর্থ উত্তোলন করেছে। এরা এখন সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি কোম্পানির বহু চেক ব্যাংক থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপর রাজ্যজুড়ে এর অফিস বন্ধ করে দেয়া হয় এবং গ্রুপের চেয়ারম্যান আত্মগোপন করেন। গ্রুপের পত্রিকা বেঙ্গল পোস্টসহ ১০টি মিডিয়া বন্ধ করে দেয়া হলে সহস্রাধিক সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়ে।
