সুন্দরবনে র্যাব এর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কমপক্ষে তিন বনদস্যু নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সাতটি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ শতাধিক রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গুলি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের মৃগমারী খাল সংলগ্ন এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহতরা সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু মোর্ত্তজা বাহিনীর সদস্য বলে দাবি করেছে র্যাব।
তবে নিহতদের মধ্যে সেলিম (৩৭) নামে এক বনদস্যুর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। সে মোর্ত্তজা বাহিনীর সদস্য, বাড়ি বাগেরহাটের মংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া গ্রামে। সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত র্যাব অপর দুই নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি এক নলা বন্দুক, একটি এয়ারগান ও চারটি এলজি।
র্যাব-৮ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফরিদুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় মোর্ত্তজা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে-এমন খবর পেয়ে র্যাব এর দুটি দল মঙ্গলবার ভোরে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। সাতটার দিকে তারা মৃগমারী খালের তিন কিলোমিটার ভেতরে বনের মধ্যে দস্যুদের একটি আস্তানা ঘিরে ফেলে। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা গুলি করা শুরু করলে র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষে আধা ঘন্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধ হয়। এ সময় প্রায় তিন শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে দস্যুরা পিছু হটে বনের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরে র্যাব স্থানীয় জেলেদের নিয়ে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে তিন জনের মৃতদেহ এবং ছড়িয়ে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে। জেলেরা নিহতদের মধ্যে সেলিমকে সনাক্ত করেন। অন্য দুই জনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে বলে র্যাব অধিনায়ক জানান ।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার খন্দকার রফিকুল ইসলাম বন্দুকযুদ্ধে তিন দস্যু নিহত এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, র্যাবকে সহযোগিতার জন্য ইতিমধ্যে মংলা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সেখানে পুলিশের কাছে নিহতদের লাশ ও আগ্নেয়াস্ত্র হস্তান্তর করার কথা।
এদিকে মংলা সংবাদদাতা জানান, বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় র্যাবের পক্ষ থেকে মংলা থানায় একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া লাশ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
