গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার শেয়ারবাজারের লেনদেন হয়েছে বস্ত্র খাত ও নতুন কোম্পানি ঘিরে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার অভাব থাকায় মোট লেনদেন হয়েছে কম। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে সূচক যেভাবে উঠা-নামা করছে এ অবস্থায় লেনদেন ৫ থেকে ৬শ কোটি টাকার উপরে হলে বিনিয়োগকারীরা চিন্তিত হতেন না। লেনদেন কম হওয়ায় আস্থার সঙ্কট তীব্র হয়ে উঠছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার ইতিবাচক করতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাজারে আসার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
আইডিএলসির দৈনন্দিন বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ বস্ত্র খাতের অবদান। আর শেয়ারবাজারে নতুন যুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেঙ্গল উইন্ডসোর, ওরিয়ন ফার্মা, প্রিমিয়ার সিমেন্ট এবং সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানির লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের প্রায় ১৫ শতাংশ। এদিকে লভ্যাংশ ঘোষণার প্রেক্ষিতে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদর বড় ধরনের উঠা-নামা করেছে। এর মধ্যে রেকিট বেঙ্কিজারের দরপতন হয়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। আর ম্যারিকোর দর বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) ৮ পয়েন্ট কমে ৩ হাজার ৫০৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সাধারণ মূল্যসূচক কমেছে ১ পয়েন্ট। আর ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০৭ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১৩০ কোটি ২২ লাখ ২১ হাজার টাকা, যা আগেরদিনের চেয়ে প্রায় ৯ কোটি টাকা বেশি। লেনদেনকৃত ২৭৬টি কোমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৪টির, কমেছে ১২৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৬টির।
ডিএসই জানিয়েছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রেকিট বেঙ্কিজার, ম্যারিকো এবং বে লিজিং তাদের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ম্যারিকো ৫০ শতাংশ, রেকিট বেঙ্কিজার ১৫০ শতাংশ এবং বে লিজিং ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
