সুসময়ে সুষমা

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৪২
ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি ছিল তার দুর্বার আকর্ষণ। সেই আকর্ষণ থেকে শুরু করেন কবিতা লেখা। কলেজের চৌকাঠ পেরিয়ে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতকোত্তর। এরই মাঝে ২০০০ সালের দিকে যোগ দেন নাটকের দল ‘দেশ নাটক’-এ। মঞ্চে প্রথম অভিনয় করেছেন শহীদুল জহিরের গল্প অবলম্বনে নাসিরুদ্দিন শেখের নির্দেশনায় ‘জনমে জন্মান্তর’ নাটকে। এ ছাড়াও অভিনয় করেছেন দেশ নাটকের ‘নিত্যপুরাণ’ ও ‘বিরসা কাব্য’ নাটকে। দেশ নাটকের দলেই গিয়াস উদ্দিন সেলিমের সঙ্গে পরিচয়। সুষমার প্রথম টিভি অভিনয় মাসুম রেজার রচনা ও গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় ‘সাদা মেঘে বৃষ্টি’। এই নাটকে সাবলীল অভিনয়ের জন্য একই পরিচালকের ‘স্বপ্নসিঁড়ি’ ও ‘ইন্টারভিউ’ নাটকে অভিনয় করেন। এরপরের গল্প শুধু সামনের দিকে এগিয়ে চলা। কাজ করেন একের পর এক মানসম্পন্ন নাটকে। সুষমা অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো—‘লারা’, ‘কুহক’, ‘নাবিলাচরিত’, ‘চিঠি’, ‘মনে মনে’, ‘অবাক সন্দেশ’, ‘ডালিমকুমার’, ‘টুলেট’, ‘সংসার’, ‘নীল’, ‘মায়ের দোয়া পরিবহন’, ‘কিছু কিছু আরও অন্ধকার’, ‘মেটামরফসিস’, ‘স্ক্রিপ্ট রাইটার’, ‘নন্দিনী’, ‘দূর পাহাড়ের বাতাসেরা’, ‘আঙুর মহল’ প্রভৃতি। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে সুষমা অভিনীত চারটি ধারাবাহিক নাটক। এগুলো হলো— এটিএন বাংলায় মাতিয়া বানু শুকুর পরিচালনায় ‘প্রজ্ঞা পারমিতা’, বাংলাভিশনে এসএ হক অলিকের ‘লেডিস ফাস্ট’, এশিয়ান টিভিতে গৌতম কৈরীর ‘কাচের ক্যানভাস’ ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে আকরাম খানের ‘ছায়াযুদ্ধ’। প্রচারের অপেক্ষায় আছে ধারাবাহিক নাটক অসীম গোমেজের পরিচালনায় ‘রেড লাইন’ ও রায়হান আফরোজের ‘কাদামাটির মানুষেরা’ এবং এক খণ্ডের নাটক তুহিন অবন্তের ‘গোঁফ সমাচার’, জয়ন্ত রোজারিওর ‘চিহ্ন’ ও এসএ হক অলিকের ‘হাওয়াই মিঠাই’। অভিনয়ের পাশাপাশি নাম লেখান মডেলিংয়েও। এই এরিনাতেও সফল তিনি। সুষমার উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনচিত্রগুলো হলো— তীর সরিষার তেল, মেরিল বেবি লোশন, ফান চানাচুর, ডিপ্লোমা গুঁড়ো দুধ, বাংলালিংক, লাইফবয়, এসিআই আটা ময়দা সুজি, সিলন চা, জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনচিত্র নারী নির্যাতন ইত্যাদি। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে তার আরএফএল কিচেন সিঙ্কের একটি বিজ্ঞাপনচিত্র। মডেলিং ও অভিনয় দুই মাধ্যমেই আপনি সমান তালে এগিয়ে চলছেন। এর মধ্যে কোন মাধ্যমে কাজ করতে আপনার ভালো লাগে? উত্তরে সুষমা বলেন, ‘মডেলিং আমাকে চুম্বকের মতো টানে আর অভিনয় হলো ভালোবাসা। তবে বিজ্ঞাপন বেশি প্রচার হয় বলে সেখান থেকে আউটপুট বেশি আসে।’ বর্তমানে তিনি কাজ করছেন বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নাটকে। এগুলো হলো—আবুল হায়াতের পরিচালনায় ‘বনফুলের গান’, অঞ্জন আইচের ‘চন্দ্রাবতী’ ও ‘জল ফড়িংয়ের গান’, এসএ হক অলিকের ‘সোনার সুতো’, শিহাব শাহীনের ‘ভালোবাসার ছোট সুখ’, তুহিন অবন্তের ‘কর্পোরেট’ প্রভৃতি। ইতোমধ্যে রুপালি পর্দাতেও নিজেকে যুক্ত করেছেন প্রতিভাময়ী এই অভিনেত্রী। তার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে নূরুল আলম আতিকের ‘ডুবসাঁতার’, ওয়াহিক তারেকের ‘গন্তব্য নেই’, অনিকেত আলমের ‘আউট অব দ্য বক্স’, আনোয়ার শাহাদাতের ‘ওস্তাগারের দলিল’, সানিয়াত হোসেনের ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’ ও সামুরাই মারুফের ‘পারলে ঠেকা’। ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে সুষমা বলেন, ‘আমার স্বপ্ন একটাই—একজন ভালো অভিনেত্রী হওয়া। আমি অভিনয়ের মাধ্যমে চিরকাল দর্শকের হূদয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’