কথার জাদুতে

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৪২
শৈশবেই মনে স্বপ্ন আঁকেন মিডিয়ায় কাজ করবেন বলে। তবে তা হতে হবে একটু ভিন্ন ধরনের কাজ। তাই শোবিজ জগতের সব এরিনা ছেড়ে মারিয়া বেছে নিয়েছেন উপস্থাপনা। উপস্থাপনা কঠিন হলেও নিজের মেধা, যোগ্যতা দিয়ে নিজেকে তারকার আসনে বসিয়েছেন। তার এই সাফল্যের পেছনের রহস্য কী জানতে চাইলে মারিয়া বলেন, ‘আমি প্রতিটি কাজ ভালোবেসেই করি। সেই সাথে প্রতিটি মানুষকে সম্মান করি এবং সময় মেনটেইন করে চলি। এই সবকিছুর সমন্বয়েই আমার আজকের এই অবস্থানে আসা।’ শাহরিয়ার শাকিলের পরিচালনায় চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরে প্রতি শনিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে প্রচার হচ্ছে ট্রাভেল শো ‘সার্কেল দি গ্লোব’, এ শোয়ের মারিয়ার উপস্থাপনায় ইন্দোনেশিয়ার পর্বগুলো বেশ দর্শকনন্দিত হয়ে উঠছে। ‘সার্কেল দি গ্লোব’-এর টিম ইউরোপ ভ্রমণ শেষে এবার এশিয়াতে প্রবেশ করেছে। ইন্দোনেশিয়ান ট্যুরিজম মিনিস্ট্রির সাথে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে ‘সার্কেল দি গ্লোব’-এর টিম ঘুরে বেরিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। এই ট্রাভেল শো সম্পর্কে মারিয়া বলেন, ‘এই শো করতে গিয়ে আমার অনেক ভালো লেগেছে। আমরা প্রতিদিন ৮ থেকে ১৬ ঘণ্টা জার্নি করতাম। তবুও যেন ক্লান্ত লাগত না। আসলে বন্ধুদের সাথে ট্রাভেল না করলে ভালো লাগে না। আমাদের পুরো টিমের সবাই ছিল হেল্পফুল। তাই ট্যুরটা সবাই এনজয় করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ ভ্রমণ না করলে একটা পেইজে আটকে থাকে। আর ভ্রমণ করলে অভিজ্ঞতায় নতুন নতুন পেইজ সংযোগ হয়। সেখানে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে, পানির নিচে শুটিং করেছি। এই ট্রাভেল শো’র বিভিন্ন পর্বগুলোর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার খাবার, প্রকৃতি ও ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতি সর্ম্পকে দর্শকরা ভালো ধারণা পাবেন।’ এ ছাড়া মারিয়া চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরে লাইফস্টাইল ও এন্টারটেইনমেন্ট প্রেজেন্টার হিসেবেও কর্মরত আছেন। সেইসাথে এবিসি রেডিওতে আরজে হিসেবে কাজ করছেন দীর্ঘ ৪ বছর ধরে। একজন উপস্থাপকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ কী? উত্তরে মারিয়া বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে সব কিছু সুন্দরভাবে ম্যানেজ করাই হলো একজন উপস্থাপকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’ উপস্থাপনা করে আপনার কোন জিনিসটি ভালো লাগে? প্রশ্ন শুনে তিনি মৃদু হেসে বলেন, ‘আমি উপস্থাপনা করে অনেক প্রশংসা পাই। আর তরুণদের মাঝেও ইদানীং বেশ রেসপন্স পাচ্ছি।’ একজন উপস্থাপকের কী কী গুণ থাকতে হয়? জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথমেই প্রয়োজন হয় উপস্থিত বুদ্ধির। এরপর সঠিক উচ্চারণ ও প্রতিটি সেক্টরের বেসিক নলেজ থাকতে হবে একজন উপস্থাপকের।’ নিজের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আরজে হিসেবে কাজ করতে আমার খুব ভালো লাগে। আর আমি মাইক্রোফোন ভালোবাসি। সাথে গানও ভালোবাসি। তাই এই কাজটা সব সময় এনজয় করি। তা ছাড়া অ্যাডভেঞ্চার ভালো লাগে বলেই ট্রাভেল শো করছি।’ এই প্রতিভাময়ী তরুণীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। তিনি পড়াশোনাতেও সব সময় প্রথম সারিতেই থাকেন। অ্যাকাউন্টিংয়ে অনার্স ও মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছেন। সেইসাথে শান্তা মারিয়াম ইউনির্ভাসিটি থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে পড়াশোনা করেছেন। নিজের কাজের বিষয়ে মারিয়া সব সময় পরিবারের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। তার ভাষ্যে, ‘মিডিয়ায় কাজের জন্য পরিবার থেকে সহযোগিতা পাই বলেই আজ এতদূর আসতে পেরেছি।’ ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে মারিয়া মৃদু হেসে বলেন, ‘আসলে স্বপ্ন তো সময়ের সাথে সাথে চেঞ্জ হয়। তবে উপস্থাপনাটা চালিয়ে যাবো। আর ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান নির্মাণের ইচ্ছা আছে।’ আগামী দিনগুলোয় অভিনয় করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই অভিনয় করব। ভালো গল্প ও পরিচালকের সাথে কাজ করতে অসুবিধা নেই। তবে বেছে বেছে কাজ করতে চাই। কেননা সেই সব চরিত্রগুলোই করব, যেখানে আমার প্রয়োজন আছে। ওই সব চরিত্রে কাজ করলে নিজের অভিনয়ের সবটুকু দিতে পারব বলে মনে করি।’ মেকআপ হেয়ারোবিক্স ব্রাইডাল