কেমন যাচ্ছে আপনার সময়টা?
আমার ক্যারিয়ারের পুরোটা সময়ই আমার জন্য পজেটিভ। কেননা আমি আগেও যেমন কাজ করেছি এখনও ঠিক তেমনই কাজ করে চলছি। উত্থান পতন আমাকে খুব একটা স্পর্শ করেনি। আমি বরাবরই সময়ের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিই। কারণ সময়ই মানুষকে বলে দেয়, কোন দিকে যেতে হবে। আমি জীবনের একটি মুহূর্তকেও অযথা নষ্ট করতে চাই না, আমি বরাবরই সময়কে যথার্থভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করি।
বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে?
কাজ নিয়ে কখনও আমার মাঝে কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। আমি কখনও এমনটি চাইনি যে, আমাকে অনেক অনেক নাটকে অভিনয় করতে হবে, সব সময় টিভিপর্দায় নিজেকে দেখতে হবে। এই ভাবনা কখনও তাড়া করেনি। আসলে নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভালো কাজের একজন অভিনেত্রী হিসেবে। বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা একটু বেশি। একক ও ধারাবাহিকে কাজ করছি সমান গতিতে। মিডিয়ায় কাজ করতে এসেছিলাম ভালোলাগা থেকে, সেই ভালোলাগার কাছে সত্ থাকতে চাই এবং পরিশ্রম করতে চাই নিজেকে আরও প্রমাণ করার জন্য।
কোন ধরনের নাটকে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
সব অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই এক নাটকে কাজ করতে বেশি ভালোবাসে আমি ও বাসি কিন্তু ধারাবাহিকেও আমি কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কেননা একটি চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে এই চরিত্রের মাধ্যমে দর্শক হূদয়ে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর বর্তমানে আমাদের স্ক্রিপ্টের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। এখন আর নির্দিষ্ট প্রেম-ভালোবাসার মধ্যে আমাদের নাটক আটকে নেই। দৈনন্দিনের নানা ধরনের ঘটনাগুলোই উঠে আসছে আমাদের নাটকগুলোতে। সে ক্ষেত্রে আমাদের নাটকগুলোও অনেক বেশি জীবনঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আর এক ঘণ্টার নাটকে চরিত্রের মাঝে ভিন্নতা থাকে, তাই এতে অভিনয় করে তৃপ্তি পাওয়া যায়।
নাটকের মাঝে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দেখানো সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই।
দেখুন, আমাদের দেশের নাটকের গল্পগুলো বাইরের দেশের থেকে অনেক ভালো। আমাদের কাজে অনেক সৃজনশীলতা রয়েছে কিন্তু তারপরও আমাদের এখানে নাটকে এত বিজ্ঞাপন দেখায় যে নাটকের কথা দর্শক বেমালুম ভুলে যায়। অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের ফলে নাটকের স্বকীয়তা নষ্ট হয়ে যায়। মাঝে মাঝে নাটক দেখতে বসলে ভুলে যাই নাটক দেখছি না বিজ্ঞাপন দেখার জন্য টিভির সামনে বসেছি। তবে বিজ্ঞাপনের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে, সুতরাং এ ধরনের সমস্যা কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় সমাধান দিতে পারে।
আপনার নাগরিক আনন্দ-বেদনা কতটুকু?
নাগরিক জীবনে সবাইকে আনন্দ খুঁজে নিতে হয়। তবে নাগরিক বেদনা খুঁজে নেওয়া লাগে না, তা স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কিছুটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। তারপরও দেশের একজন নাগরিক হিসেবে অবশ্যই দেশের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা আছে। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আমাদের দেশ কিন্তু ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নতির দিকে। কারও জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরা নিজেদের দায়িত্ব যদি সত্ ও সঠিকভাবে পালন করি তাহলে সমাজে কোনো সমস্যাই থাকবে না বলে আমার বিশ্বাস।
