মু খো মু খি

উপমহাদেশের সব নায়করা একই ফর্মেটে অভিনয় করে

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৫০
শতাব্দী ওয়াদুদ। এ দেশের ছোট পর্দার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। শুধু ছোট পর্দাতেই নয়, বড় পর্দাতেও শক্ত একটা অবস্থান তৈরি করছেন তিনি। একাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করছেন এখন। নিজের সাম্প্রতিক ব্যস্ততা ও মিডিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রবি হাসান আপনার বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন। আবুল হায়াতের পরিচালনায় ‘বুনোফুলের গান’ ধারাবাহিকের কাজ করছি। সাগর জাহানের রচনা ও সৈয়দ শাকিলের পরিচালনায় ‘অতিক্রম’ নামের ধারাবাহিকে কাজ করছি। ঈদের জন্য সিঙ্গেল নাটকের কাজ এরইমধ্যে শুরু করে দিয়েছি। ২৫শে বৈশাখ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন, এই উপলক্ষে একটি কাজ করছি। এ মাসের শেষের দিকে আরও কিছু নাটকের শুটিং আছে। আগামী মাসের ১৫ তারিখে মালয়েশিয়া যাচ্ছি ‘পায়রা’ ছবির শুটিংয়ে অংশ নিতে। তানভীর মোকাম্মেলের ‘জীবন ঢুলি’র কাজ একেবারেই শেষ, এডিটিং টেবিলে আছে। ‘চোখের দেখা’ নামের আরও একটি চলচ্চিত্রের কাজ হয়তো শুরু করব খুব শীঘ্রই। এই তো, এগুলো নিয়েই ব্যস্ততা আমার। আপনি তো এখন অনেকটাই নিয়মিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। এর অভিজ্ঞতাটা একটু শেয়ার করুন? চলচ্চিত্র তো অনেক বড় মাধ্যম। একজন অভিনেতার গোলই হচ্ছে চলচ্চিত্র। আমি থাকব না তবে চলচ্চিত্র ঠিকই থাকবে। আর মানুষের পরিচয় তো তার কাজেই। এসব জায়গা থেকে চলচ্চিত্রের কাজটাকে আমি খুব বেশি গুরুত্ব দিই। ভালো কাজ উপহার দিতে চাই। আমাদের বর্তমান চলচ্চিত্র নিয়ে আপনার ধারণা কেমন? মার্কেটে সব সময়ই ভালো খারাপ দুইটাই থাকে। এখনও তেমনই আছে। একটা সময় অশ্লীলতা অশ্লীলতা বলে আমাদের সব দর্শকরাও ফিরে এসেছে, অভিনয়শিল্পীরাও ফিরে এসেছে। পজেটিভ দিক হলো—এখন সেই অশ্লীলতাটা দূর হয়েছে, অনেক তরুণ নির্মাতা এসেছে, ডিজিটালে সবাই কাজ করছে, ভালো সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে, দর্শকরাও হলে ফিরতে শুরু করেছে। এই বিষয়গুলো অনেক পজেটিভ। এর আবার খারাপ দিকও আছে, ডিজিটাল হওয়ার কারণে ছবি খুবই কম বাজেটের হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক চিন্তাভাবনাটা কে কীভাবে করছেন বুঝে উঠতে পারছি না। তবে আরও কিছু আশার আলো দেখা গেছে ইনভেস্টরদের মধ্যে, তারা ইনভেস্ট করতে এখন আগ্রহী হচ্ছেন। সব মিলিয়ে আমাদের ইন্ডস্ট্রিটা আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। অধিকাংশ সময়ই আপনাকে খল চরিত্রে দেখা যায়। এই বিষয়টি নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে কী বলবেন? মূলত খল চরিত্রের কাজ হলো খুন, হত্যা, ধর্ষণ ও লুটসহ নানা অপরাধমূলক কাজ করা। আর একজন নায়কের চরিত্র হচ্ছে সে ভালো মানুষ ও শক্তিশালী হবে, গান গাইবে ইত্যাদি। বাস্তব জীবনে নাচ-গান কিন্তু আমরা এমনিতে করি না। ওই দিক থেকে হিরোর চরিত্রটা অনেকটাই কাল্পনিক বা ফ্যান্টাসি বলা যায়। অন্যদিকে খল চরিত্রটা অনেকটাই বাস্তববাদী। আর আমাদের উপমহাদেশের সব নায়করা একই ফর্মেটের চরিত্রে অভিনয় করে। কোনো ভিন্নতা নেই। হলিউডের ক্ষেত্রে বিষয়টা আলাদা। সেদিক থেকে আমি বলব যে, খল চরিত্রে অভিনয়টা দেখানোর অনেক বেশি জায়গা থাকে। দুই বাংলার চলচ্চিত্র বিনিময় নিয়ে আলোচনা চলছে, এমনকি শিল্পীদের নিয়েও যৌথ উদ্যোগে কাজ করার জন্য আলোচনা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে কী বলবেন? দুই বাংলার যৌথ উদ্যোগে যদি কলকাতার আমাদের শিল্পী ও নির্মাতারা কাজ করেন তাহলে বলব যে, আমাদেরই লাভ। কেননা অভিনয়গুণে আমরা তাদের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে। কিন্তু যদি বলা হয় যে চলচ্চিত্র বিনিময়, তাহলে একটা বিশাল বড় ভুল করবে বাংলাদেশ। কারণ আমাদের ফিল্ম তৈরি হয় মাত্র বিশ থেকে ত্রিশ লক্ষ টাকায়, অন্যদিকে কলকাতার একটা ছবি নির্মাণ হয় ৫ কোটি টাকায়। তাদের সাথে কীভাবে আমরা প্রতিযোগিতায় নামব? শুধু অভিনয় ভালো হলেই চলচ্চিত্র হয় না। টেকনিক্যালি অনেক বিষয় আছে যেগুলোতে আমরা সবার থেকে পিছিয়ে।