এই মৌসুমে অন্তত বার্সেলোনার জয়-পরাজয় প্রায় পুরোটাই নির্ভর করছিল লিওনেল মেসির ওপর। বাকি তারকারা জ্বলে উঠতে না পারলেও তিনি একটার পর একটা ম্যাচ জেতাচ্ছিলেন। কিন্তু বায়ার্নের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে অন্তত সেটা আর হল না। মেসিরও নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স দেখে অনেকেই এখন বলছেন, মেসি ম্যাচ খেলার মতো ফিটই ছিলেন না। কিন্তু এমন কথাকে উড়িয়ে দিলেন মেসি নিজে। যদিও মেসি নিজেই স্বীকার করছেন ম্যাচ খেলার মত শতভাগ ফিট ছিলেন না তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে এ মাসের ১০ তারিখ প্যারিস সেন্ট জার্মেইর বিরুদ্ধে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির শিকার হন মেসি। ঐ ম্যাচে দলকে জেতাতে পারলেও তাকে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় বেশ কয়েক ম্যাচের জন্য। বায়ার্নের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে পারবেন কিনা সন্দেহ ছিল সেটা নিয়েও। শেষ পর্যন্ত খেলতে পারলেও মাঠে মেসি ছিলেন একদমই অচেনা। তিনি ম্যাচ খেলার মতো শতভাগ ফিট কিনা, দ্বিতীয়ার্ধে তার খেলা দেখে জাগছিল এ প্রশ্নও। মেসিকে বিশ্বসেরা মানলেও তিনি ম্যাচ খেলার মতো ফিট ছিলেন না; আরো অনেকের মতোই বায়ার্ন সভাপতি কার্ল হেইঞ্জ রুমনিগেও বলছেন এমনটাই। মেসির ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করি মেসিই এক নম্বর। তবে আমার মনে হয় না সে ম্যাচ খেলার মতো ফিট ছিল।’
প্রথম লেগেই তাকে খেলানোর ঝুঁকি নেয়া উচিত হয়নি, এ ধরনের বক্তব্যের সাথে মোটেই একমত নন এ আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। তিনি বলেন, ‘আমি বেশ কয়েকদিন পরে খেলতে নেমেছি এবং মাঠে আমি পুরোপুরি ভালও বোধ করছিলাম না। কিন্তু মনে রাখতে হবে আমি আহতও ছিলাম না। তাই আমার মাঠে নামার সিদ্ধান্তের মধ্যে ভুল কিছু ছিল না।’ মাঠে নামলেও বার্সার চার গোলের পরাজয় রোধ করা সম্ভব হয়নি মেসির পক্ষে। লজ্জাজনক এই হারের পরে দ্বিতীয় লেগে ফিরে আসাটা যে মোটেই সহজ হবে না ২৫ বছর বয়সী এই তারকা বুঝতে পারছেন সেটাও। মেসি বলেন, ‘এটা ৪-০ গোলের হার। ফিরে আসাটা হবে খুব কঠিন, কারণ তারা দুর্দান্ত একটা দল। তবে ঘরের মাঠে আমরা গোল করার চেষ্টা করবো। নিজেদের সেরাটাই আমাদের ঢেলে দিতে হবে। আমাদের এখন প্রয়োজন যত দ্রুত সম্ভব লা লিগা শিরোপা নিশ্চিত করা।’
প্রায় একই কথা বললেন মেসির সতীর্থ জেরার্ড পিকেও, ‘তারা মাঠে ছিল দ্রুততর, শক্তিশালী এবং আমাদের চেয়ে ভাল খেলেই তারা জিতেছে। তারাই ছিল শ্রেয়তর দল। এমন অবস্থায় আমাদের ফিরে আসা খুবই কঠিন। তবে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে এবং সমর্থকদের জন্য হলেও পরবর্তী ম্যাচটা জিততে হবে।’
