ডেমু ট্রেন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪০
বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের মধ্যে আধুনিক ও দ্রুতগামী ‘ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট’ (ডেমু) ট্রেন চালুর মাধ্যমে রেলের সমপ্রসারণ প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রথম এ ধরনের কমিউটার ট্রেন সার্ভিস উদ্বোধনকালে বলেন, পর্যায়ক্রমে এই ডেমু ট্রেন ঢাকা-জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম মহানগরী, চট্টগ্রাম, লাকসাম, কুমিল¬া, আখাউড়া, সিলেট এবং মিটারগেজের রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট রুটে চলাচল করবে। এ উপলক্ষে কমলাপুর রেলস্টেশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা আরও বলেন, রেলওয়ের দীর্ঘ ইতিহাসে এই দ্রুতগামী ট্রেন সার্ভিসের প্রবর্তন এক অনন্য ঘটনা। কারণ এই আধুনিক ডেমু উন্নত বিশ্বের মতো এদেশের জনগণকে স্বস্তির সেবা দেবে। এতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে যাত্রীদের ভ্রমণ সহজ ও দ্রুত হবে এবং দক্ষিণ ঢাকার যানজট কমাবে। রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আবু তাহের অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৪৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ সেট ডেমু কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ২ মাসের মধ্যে এসব ডেমু দেশে পৌঁছবে। তিনি বলেন, রেল সার্ভিস হচ্ছে দেশের পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী যোগাযোগ ব্যবস্থা। ব্রিটিশ আমলে এই ব্যবস্থা চালুর পর সময়ের বিবর্তনে এটি এ দেশের সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও স্বস্তির যোগাযোগ মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, এক সেট ডেমু ট্রেন ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে একসঙ্গে ৩শ’ যাত্রী বহন করতে পারে। এ ট্রেনে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ যেতে সময় লাগবে মাত্র ২৫ মিনিট। অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৯৬ সালে তার বিগত সরকার বঙ্গবন্ধু সেতুর রেললাইনসহ নতুন ১শ’ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়েকে পুনরুজ্জীবিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। বর্তমান সরকার রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য এ খাতে পৃথক বাজেট বরাদ্দের জন্য আলাদা রেল মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। এছাড়া বর্তমান সরকার এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়েকে আরো গতিশীল করতে ১৮ হাজার ৩১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৮টি নতুন প্রকল্প এবং ৫ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি সংশোধিত প্রকল্প হাতে নিয়েছে। রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকারের নেয়া বিভিন্ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত চার বছরে আমরা রেলকে পুনরুজ্জীবিত এবং রেলের ক্ষতি অনেক কমিয়ে এনেছি। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে সৈয়দপুর রেল কর্মশালায় পুরোদমে কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কোন যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বিএনপি-জামায়াত হরতাল ডাকছে এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে। এমনকি রাস্তায় স্কুলগামী ছেলে-মেয়ে ও মানুষ নিজ বাড়িতেও তাদের হামলা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দেশের অর্থনীতিকে স্বাধীনতা-পূর্ব পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে এবং তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের হাত থেকে রক্ষা করতে চায়, যা দেশের মানুষের কাছে কখনই কাম্য নয়। তিনি বলেন, বিষয়টি এমন নয় যে, আমরা একটার পর একটা যুদ্ধাপরাধীদের ধরলাম আর তাদের ফাঁসি দিয়ে দিলাম। আমরা তাদের অপরাধের জন্য আইনের হাতে সোপর্দ করেছি। দেশের প্রতিটা মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল ও দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার সব ষড়যন্ত্র নস্যাত্ করা হবে।