সাভারে ধসে ৮ তলাবিশিষ্ট রানা প্লাজার তিনতলায় ফাটলের কারণে ভবনটি চরম ঝুঁকিতে ছিল। ভবন ধসে পড়তে পারে এমন ঝুঁকির ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকৌশলী ভবনটি ব্যবহার না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। গার্মেন্টসকর্মীরাও বার বার গার্মেন্টস মালিককে তাগিদ দিয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার থেকে ওই ভবনের ব্র্যাক ব্যাংকের শাখাও বন্ধ রাখা হয়। এতোকিছুর পরও তোয়াক্কা করেননি ভবনের মালিক সোহেল রানা ও গার্মেন্টস মালিকরা। ভবনটি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে জেনেও ভবন মালিক এবং গার্মেন্টস মালিক এক হয়ে শ্রমিকদের কাজ করার জন্য বাধ্য করে। অপরদিকে ভবন ধসে পড়ার পর ভবন মালিক সোহেল রানা ভবন এলাকা থেকে পালিয়ে যান।
ভবনে আটকাপড়া পোশাক শ্রমিক সাহিদা খাতুন সেনা সদস্যদের সহযোগিতায় বের হয়ে আসেন। তিনি জানান, ৮ তলা ভবনের তিন তলায় ফাটল দেখে যাওয়ার পর থেকে শ্রমিকরা বার বার মালিককে বলেছে বিল্ডিং ঠিক করার জন্য। ঝুঁকির কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই শ্রমিকরা আশঙ্কার কথা বলাবলি করতো। গত মঙ্গলবার ফাটলের কারণে আতঙ্ক শুরু হয় ভবনটিতে। সে সময় হুড়োহুড়িতে দুজন আহত হয়েছেন। এ কারণে বুধবার শ্রমিকরা কাজে আসবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও মঙ্গলবার গার্মেন্টসের সুপারভাইজার মোবাইল করে সবাইকে বুধবার কাজ করার জন্য বাধ্য করে। বুধবার সকালে গার্মেন্টসের সামনে আসলেও অনেকেই কাজ না করে ফিরে যেতে চায়। তখর মালিক বলেছে বিল্ডিং ঠিক আছে। এরপর আমরা পেটের দায়ে ভবনে প্রবেশ করি।
স্থানীয়রা জানান, পৌর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক হওয়ার সুবাদে সোহেল রানা অনেকটা প্রভাব বিস্তার করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিচালনা করেন। বেশ কয়েকদিন আগেই ভবনটির ফাটল দেখা যায়। অতিরিক্ত ঝুঁকির কারণে ও শ্রমিকদের তোপের মুখে সোহেল রানা গত রবিবার থেকে ভবনটি ৫ দিনের জন্য বন্ধ করে দেন। ভবনের এ পরিস্থিতির কারণে কারখানার মালিক স্থানীয় প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাকের সহায়তায় ভবনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। আব্দুর রাজ্জাক ভবনের অবস্থা দেখে রাজউককে অবহিত করতে বললেও এতে কর্ণপাত করেননি ভবনের মালিক। মঙ্গলবার ভবন মালিকের তোড়জোড়ের কারণে গার্মেন্টস মালিক শ্রমিকদের কাজ করার জন্য ডেকে আনে। মঙ্গলবার হঠাত্ করে তিনতলার প্লাস্টার খসে পড়লে গার্মেন্টসকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হন। বুধবার সকাল ৭টায় রানা কমপ্লেক্সে আসেন সোহেল রানা। এখান থেকে তিনি হরতাল বিরোধী মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল ৩০০ নেতাকর্মী। এ সময় গার্মেন্টসের শ্রমিকরা ভবনের নিচে আসলেও উপর উঠতে ভয় পায়। তখন সোহেল রানা নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় জোর করে পোশাক শ্রমিকদের কারখানার ভেতরে প্রবেশ করান। এ সময় গার্মেন্টসের সুপারভাইজার হুমকি দিয়ে শ্রমিকদের বলেন, প্রবেশ না করলে বেতন দেয়া হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কাজ করতে অনিচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের জোর করে ভবনে ঢোকানো হয়।
পৌরসভার প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তা মো. শফিক বলেন, পোশাক কারখানা করার মতো যথাযথ নকশা করেনি গার্মেন্টস মালিক। নির্মাণ ত্রুটির জন্য পিলারগুলো অতিরিক্ত লোড নিতে না পারায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
এদিকে ভবন মালিক সোহেল রানা পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধসে পড়া রানা প্লাজার মালিক সাভার পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক সোহেল রানা ভবনটি ধসে যাওয়ার আগ মুহূর্তে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ওই ভবনের সামনেই অবস্থান করছিলেন। পরে তিনি পালিয়ে যান।
