নির্মাণ বিধির তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠে রানা প্লাজা

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪১
পুরো অনিয়মের মধ্যেই গড়ে ওঠে সাভারের বিধ্বস্ত হওয়া ভবন ‘রানা প্লাজা’। জমি দখলের পর নির্মাণ কাজে কোন বিধিরই তোয়াক্কা করেননি ভবনটির মালিক সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা সোহেল রানা। ৬ তলা ভবনের অনুমতি নিয়ে কাজ শুরুর পর সাভার পৌরসভার কাছ থেকে অনেকটা জোর করেই গত বছর ১০ তলার অনুমতি নেন তিনি। তদারকি প্রতিষ্ঠান সাভার পৌরসভার কোন ইঞ্জিনিয়ারকে ভবনের ধারে কাছেও ঘেঁষতে দেননি। সাভার পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সোহেল রানার ক্ষমতার কাছে সবাই ছিলেন অসহায়। আর ফাটল দেখার পর নিজের ইঞ্জিনিয়ার দিয়েই ঘোষণা দেন -এই ফাটলে কোন সমস্যা হবে না। ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে মাত্র তিন বছর আগে একটি ডোবাকে বালি দিয়ে ভরাট করে দুই বছর আগে এই বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। সমস্ত আইন কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অতি দ্রুত ৮তলা পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করেন। তার উপর শুরু করেছিলেন নবম তলাও। গত বছরেই সাভারের স্থানীয় সংসদ সদস্য তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ এটির উদ্বোধন করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই যুবলীগ নেতা দায়সারা ভাবে মার্কেটটি নির্মাণ করলেও কেউ প্রতিবাদ করতে পারেনি। বর্তমান পৌর মেয়র রেফায়েত উল্লাহ পৌর বিএনপির সভাপতি হওয়ায় তিনি সবকিছু দেখে চুপ করে থাকতে বাধ্য হয়েছেন বলে ইত্তেফাকের কাছে দাবী করলেন। পৌর মেয়র ইত্তেফাককে বলেন, প্রথমে ৬ তলার অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। সেভাবেই গড়ে উঠে ভবনটি। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে ১০ তলার অনুমোদনের জন্য চাপ দেয়া হয়। অনেকটা বাধ্য হয়েই গত বছর ১০ তলার অনুমোদন দেন তারা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রবীন্দ্রনাথ সরকার নামে একজনের কাছ থেকে অনেকটা জোর করেই সোহেল রানা এই জমিটা দখল করে নেন। তখন এই জমিতে ডোবা ছিল। ৫২ শতাংশ জমি দখলের পর গড়ে উঠে ভবন। সাভার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এমতেমাম হোসেন বলেন, প্রথমে ৬ তলার অনুমোদন দেয়া হলেও পরে বাধ্য হয়ে ১০ তলার অনুমতি দেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, এই ভবন নির্মাণ শুরুর পর তাদের কোন নজরদারিই ছিল না। তাছাড়া সাভার পৌরসভায় মাত্র ৭ জন লোক এগুলো দেখভাল করেন বলে দাবী করেন তিনি। তাই সবার প্রতি নজরদারি করাও সম্ভব হয় না। এই ভবনের বেজমেন্টে মালিক সোহেল রানার অফিস। আর প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ছোট ছোট দোকান এবং ৩য় থেকে ৮ম তলা পর্যন্ত ৪টি পোশাক কারখানা ছিলো। দ্বিতীয় তলার সামনের দিকে ব্রাক ব্যাংকের একটি শাখাও ছিলো। স্থানীয়রা জানান, সাভার পৌর মেয়র, প্রধান প্রকৌশলীসহ সবাই মঙ্গলবার পরিদর্শন শেষে ভবনটি বন্ধ রাখার কথা বলেন। কিন্তু কারো কথার তোয়াক্কা না করে সোহেল রানা নিজের সিদ্ধান্তেই গতকাল সকালে গার্মেন্টসগুলো খুলে দেন। তবে থানা নির্বাহী কর্মকর্তা ভবনটি খুলে দেওয়ার পক্ষে মত দেন।