সাভার বাজার বাসষ্ট্যান্ডে অবস্থিত রানা প্লাজার ৯ তলা ভবন ধসে পড়ার পর ভিতরে আটকা রয়েছে শত শত মানুষ। ভবনের সামান্য ফাঁক দিয়ে জীবিতদের বাচাঁও বাচাঁও আর্তনাদে উদ্ধার কর্মীরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না। ভিতরে আটকা পড়া সাবিনা সামান্য ফাঁক দিয়ে আমাদের বাঁচান বাবা, আমাদের বাঁচান বলে করুণ আর্তনাদ করছিলেন। এ আর্তনাদ শুধু সাবিনার নয় আটকা পড়া আরো শত শত শ্রমিকের। ভিতরে আটকা পড়াদের পাশাপাশি বাইরে অপেক্ষমাণ তাদের শত শত স্বজনেরও আহাজারি এবং কান্নার মাতম চলছে। স্বজনদের খোঁজে তারা ছুটদেন দিগ্ব্বিদিক। কেউবা ধ্বংসস্তূপের সামনে কেউবা হাসপাতালগুলোতে ছুটোছুটি করছেন। ভেতর থেকে কাউকে জীবিত বা মৃত উদ্ধার করলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন তাদের স্বজনরা।
সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে নিহতদের লাশ
ভবন ধসে মৃতদের লাশ সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৭৮ জন, সীমা মেডিক্যালে-২, ল্যাবজোনে-২, সাভার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে -৬, সাভার থানায়- ৭, দীপ ক্লিনিকে-২ জনের মৃতদেহ রয়েছে বলে নিশ্চিত করা গেছে।
ঘটনাস্থলে ব্রিফিং
এদিকে বিকাল সোয়া ৫টায় ধসে যাওয়া ভবনের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে বক্তব্য পাঠ করেন ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সোহরাওয়ার্দী। এ সময় শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্থানীয় সংসদ সদস্য তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এ এন এস আজাদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৯ পদাতিক ডিভিশনের ৩শ’ সদস্য এ উদ্ধার তত্পরতায় অংশ নেন। এ ছাড়াও র্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে।
ছাদ ভেঙ্গে ফেললে ভিতরে আটকা পড়াদের জীবনের ঝুঁকি বেশি বলে বিশেষ কৌশলে ছাদের ভিতরে গর্ত করে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ৮শ’ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান। সম্মেলনে ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য জনতার প্রতি আবেদন জানানো হয়।
