সাভারে দেবে যাওয়া রানা প্লাজায় ফাটল দেখা দিয়েছিল একদিন আগেই। ওই ভবনে রয়েছে ৫টি তৈরি পোশাক কারখানা। ফাটল দেখা দেয়ার পর পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ কারখান বন্ধ রাখতে বলেছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ তা শোনেনি। গতকাল সকালে কারখানার মধ্যমসারির কর্মকর্তারা একরকম জোর করে শ্রমিকদের কারখানায় কাজ করতে নেয়। অনেককে মোবাইলে ফোন করে ধমক দিয়ে ডেকে আনা হয়। স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ওই ভবনের মালিক। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ভবনটির কাঠামো সঠিক রয়েছে বলে তিনি স্থানীয় একজন প্রকৌশলীকে দিয়ে প্রচার করান। ৫টি কারখানা খোলা হলেও ভবনে অবস্থিত একটি ব্যাংক এবং মার্কেট তখন বন্ধ ছিল।
বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি ঘটনাস্থল থেকে ফিরে গতকাল উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ভবনে ফাটল সৃষ্টি হওয়ার পর মালিকদের কারখানা খুলতে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে নিষেধ করা হয়েছিল। তাদের বলা হয়েছিল, বুয়েটের প্রকৌশলীসহ বিজিএমইএ’র টিম গিয়ে পরীক্ষা করে অনুমোদন দেয়ার পর যেন কারখানা খোলা হয়। কিন্তু বুধবার কারখানায় কাজ শুরু করার আগে বিজিএমইএকে কিছু জানানো হয়নি।
একই বক্তব্য দিয়েছেন, সংগঠনের আরেক সহ-সভাপতি রিয়াজ বিন মাহমুদ। তিনি বলেন, আগের দিন সন্ধ্যায় আমাদের কাছে ভবন ফাটলের তথ্য এলে তাদের কারখানা বন্ধ রাখতে বলি। কিন্তু বিজিএমইএ’র অনুমতি না নিয়েই ভবনে মালিকের প্ররোচনায় তারা কারখানা চালু করে। সংগঠনের সভাপতি আতিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, তাদেরকে কারখানা না খোলার জন্য বলেছি। কিন্তু তারা ভবনের মালিকের ‘ইঞ্জিনিয়ারের’ কথায় কারখানা খুলে দেয়। দোষী যেই হোক তার যথাযথ শাস্তিই সবার প্রত্যাশা। ওই ভবনের একাংশে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা। ভবনে ফাটলের পর ব্যাংকের ওই শাখা গতকাল বন্ধ রাখা হয়। একই ভবনে ছিল ইলেক্ট্রনিক পণ্যের মার্কেট। দুর্ঘটনার সময় ওই মার্কেটও বন্ধ ছিল।
উদ্ধার হওয়া আহত শ্রমিকরা অভিযোগ করেছে, তারা গতকাল কারখানায় যেতে চায়নি। কিন্তু কারখানার মধ্যমসারির কর্তারা (পিএম, জিএম) তাদের কাজ করতে জোরাজুরি করেন। ক্ষেত্র বিশেষে তাদের কাজে যেতে বাধ্য করা হয়। তাদেরকে বলা হয়, একটা পিলারে ফাটল ধরলে কিছু হয় না। ১০০ বছরেও এই ভবনের কিছু হবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ভবনে অবস্থিত ইথার টেক্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান, নিউ ওয়েভ অ্যাপারেলস লি: ও নিউ ওয়েভ স্টাইল লি: এর পরিচালক বজলুর রহমান; প্যানথম অ্যাপারেলস লি: ও প্যানথম টেক লি: এর চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম। রপ্তানিমুখি এই পাঁচটি কারখানাই বিজিএমএ’র সদস্য। বিজিএমইএ’র হিসেবে এসব কারখানায় কমবেশি আড়াই হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। গতকাল এসব কারখানার চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালক পর্যায়ের কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।
