প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের তৈরি পোশাক সরবরাহ নেয়ার পর মূল্য পরিশোধ না করে বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ দুই বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। এরা হলেন নেদারল্যান্ডের পাসপোর্টধারী ব্রিট জে লুডাভিগসেন ছাকাতা ও ভারতীয় নাগরিক স্যাম্পাত কুমার। গত ১৬ এপ্রিল বিমানবন্দর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ওই দিনই প্রতারণার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সাভার থানায় একটি মামলা হয়েছে। পরে তাদের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে বিচারক জামিন না-মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ব্রিট জে লুডাভিগসেন ছাকাতা টেক্সপ্রেগো জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি নামে একটি কোম্পানীর মালিক এবং স্যাম্পাত কুমার উক্ত কোম্পানীর বাংলাদেশ অফিসের প্রধান হিসাবে কর্মরত। উক্ত কোম্পানী বাংলাদেশের জে কে নীট কম্পোজিট লিমিটেডের নিকট বিভিন্ন সময় টি-শার্ট, পোলো শার্টসহ নানা ধরনের তৈরি পোশাকের অর্ডার প্রদান করে আসছিল এবং সে অনুযায়ী জে কে নীট কম্পোজিট লিমিটেডও তাদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত পণ্য সরবরাহ করছিল। এই ধারাবাহিকতায় জে কে নীট কম্পোজিট লিমিটেড ২০১১ সালের ৩ মার্চ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত ১৮টি ইনভয়েসের মাধ্যমে মোট ৯ কোটি ৫৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পণ্য তাদের কাছে সরবরাহ করে। কিন্তু তারা টাকা পরিশোধে গড়িমসি করতে থাকে। এক পর্যায়ে গত ২৫ মার্চ অভিযুক্তদের কাছে টাকার ব্যাপারে তাগিদ দিলে তারা তা এড়িয়ে যায় এবং দেশে ছেড়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশকে আগে থেকেই জানানো হয়। ঢাকা ত্যাগের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের আটক করে। পরে তাদের সাভার থানা পুলিশের কাছে সোপার্দ করা হয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, নেদারল্যান্ডসের নাগরিক ব্রিট জে লুডাভিগসেন ছাকাতা এবং ভারতীয় নাগরিক স্যাম্পাত কুমার একটি সঙ্গবদ্ধ প্রতারণা চক্রের সাথে জড়িত। তারা রাজধানীর উত্তরা এলাকায় কার্যালয় স্থাপন করে এবং বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে অবস্থান করে নানাভাবে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে আসছিল। এছাড়াও ছাকাতা একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন যা সুস্পষ্টরূপে বাংলাদেশ বহিঃগমন ও পাসপোর্ট আইনের লংঘন। একইভাবে আরো বেশ কয়েকটি তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতারণার শিকার হয়েছে।
