দুর্নীতি বিরোধী মঞ্চের ১২ শিক্ষক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩৬
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি বিরোধী মঞ্চের শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ ১২ জনের নামে মামলা দায়েরের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহজাহান আলী মণ্ডল বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় ওই মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন, দুর্নীতি বিরোধী মঞ্চের নেতা গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক ড. আর এম হাফিজুর রহমান সেলিম, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মতিউর রহমান, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আবু সালেহ মোঃ ওয়াদুদুর রহমান (তুহিন ওয়াদুদ), কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক মোঃ ইলিয়াছ প্রামাণিক, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আশরাফুল আলম, ইলেট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ফেরদৌস রহমান, একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আপেল মাহমুদ, শাহিনুর রহমান, প্রভাষক ওমর ফারুক, সহকারী পরিচালক (গ্রন্থাগারিক) মামদুদুর রহমান, সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ আমিনুর রহমান ও মোরশেদুল আলম রনি। আসামিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনধিকার প্রবেশ, ভাংচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ৩০ লাখ টাকা মূল্যের সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আসামিদের মধ্যে প্রভাষক ওমর ফারুক বাদে ১১ জন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের জামিনাদেশ মঞ্জুর করেন। এ ব্যাপারে মামলার আসামি বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আবু সালেহ মোঃ ওয়াদুদুর রহমানের (তুহিন ওয়াদুদ) জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মু. আব্দুল জলিল মিয়ার দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপকর্ম ঢাকতে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। তিনি বলেন, মামলা দায়ের করে ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কলুষিত করেছেন। এর দায়ভার তাকে নিতে হবে। ভিসি প্রফেসর ড. মু. আব্দুল জলিল মিয়া জানান, আমি কোন দুর্নীতি করিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত করার জন্য একটি মহল স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-শিবির চক্রের সাথে হাত মিলিয়েছে। তারাই ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য করছে। এই অপশক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কোতয়ালী থানার ওসি শাহাবুদ্দিন খলিফা জানান, মামলার তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত চার্জশিট প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল ৪ শিক্ষক ও ২ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০ এপ্রিল রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি বিরোধী মঞ্চ ও ভিসির পক্ষের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ঘণ্টাব্যাপী ত্রিমুখী সংঘর্ষে ১শ’ জন আহত হয়। সহিংস ঘটনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং সহিংস ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।