নিজামীর নির্দেশে মামাকে হত্যা করে পাকিস্তানি আর্মিরা

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩৬
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের পঞ্চম সাক্ষী নাজিম উদ্দিন খাত্তাব। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বৃহস্পতিবার তিনি জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আগামী রবিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। নিজামীর বিরুদ্ধে দেয়া জবানবন্দিতে সাক্ষী নাজিম উদ্দিন খাত্তাব বলেন, ১৯৭১ সালের ২৮ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে আমার মামা মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান সর্দার এবং তার সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস সিএন্ডবি বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে নিজামীর নির্দেশে রাজাকার আফজালসহ অন্যান্য রাজাকার এবং পাকিস্তানি আর্মিরা তাদের গুলি করে হত্যা করে। ঐ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আবু সামা ফকির এবং অন্যান্য স্থানীয় লোকজন আমার নানার বাড়িতে এ ঘটনা জানান। ঐ সময় আমি আমার নিজ বাড়িতে ছিলাম। লোকের কাছে জানতে পেরে সিএন্ডবি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখি তাদের লাশ পড়ে আছে। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ৮ মে আমার গ্রামে গণহত্যা, লুট, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ সব ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল। ঐদিন রাতে গ্রামের জমিদার শৈলেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বাড়িতে রাজাকার ও পাকিস্তানি আর্মিরা ৮-৯ জনকে হত্যা করে। সেখান থেকে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে আসা তারা হালদার জানান, মতিউর রহমান নিজামীর উপস্থিতিতে রাজাকার ও পাকিস্তানি আর্মিরা সমগ্র গ্রাম ঘিরে ফেলেছে এবং জমিদার বাড়িতে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালের মে মাসের প্রথম দিকে জানতে পারি নিজামী সমগ্র পাকিস্তানের আলবদরের কমান্ডার এবং ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন। এদিকে একই ট্রাইব্যুনালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ৩০তম সাক্ষী মো. নাজিমুদ্দিনকে জেরা শেষ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। মামলার কার্যক্রম আগামী সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বিএনপি নেতা আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ১৭তম সাক্ষী আব্দুস সুবহান সর্দারকে জেরা করেছে আসামিপক্ষ। জেরা শেষে মামলার কার্যক্রম আগামী ৬ মে পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।