যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জিএসপি (রপ্তানিতে অগ্রাধিকারমূলক বিশেষ সুবিধা) সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সাভারের ভবন ধসের ঘটনা প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এটি জিএসপি শুনানিতে প্রভাব ফেলবে। এ ঘটনা অবশ্যই কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলবে।’ তবে তিনি আশ্বাস দেন যে এ ব্যাপারে যারা সিদ্ধান্ত নেবেন, তাদের আমি এটাই বোঝানোর চেষ্টা করব যে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত এ ব্যাপারে ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কাছে যেসব প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছিল তার ঠিক ঠিক জবাব দিলেও, এখনো আরো অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কেনেডি সেন্টারে পরিবেশবিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ সব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি, এ মুহূর্তে সবাই এ ঘটনায় হতবাক। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের হতাহতের ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক।
পরে বিকেলে বনানীস্থ একটি হোটেলে আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত এক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মজীনা। এসময় তিনি সাভারে সংঘটিত ভয়াবহ ট্র্যাজেডির শিকার আহত ও নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের জন্য চরম ক্ষতি। যারা এই দেশকে ও এদেশের মানুষকে ভালোবাসেন তাদের জন্যও এখন বেদনাদায়ক সময়।
বাংলাদেশে অবৈধ অর্থের অবাধ প্রবাহের কথা উল্লেখ করে মজীনা বলেন, বাংলাদেশ এখন হামলার মুখে। যে আন্তর্জাতিক ঐক্য আর শৃঙ্খলা বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তোলার নজিরবিহীন সম্ভাবনা এনে দিয়েছে, কিছু অপশক্তি সেগুলো ধবংস করতে চায়। এই সব অপশক্তি তাদের নোংরা অর্থ পাচার, সন্ত্রাসবাদ আর সহিংস চরমপন্থার প্রচারণায় অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করছে বলে তিনি দাবি করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এই ভয়ঙ্কর অপরাধীদের পরাজিত করতে আমেরিকা বাংলাদেশের অংশীদার হওয়ায় ‘আমি গর্বিত’। এসময় তিনি এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সকল সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। কর্মশালায় পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
