জীবিত উদ্ধার দুই হাজার মানুষ

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০০
ধসেপড়া রানা প্লাজার সূ্তপ থেকে ২ হাজার মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি চৌধুরী হাসান সোহরাওয়ার্দী জানিয়েছেন, শুক্রবার পর্যন্ত জীবিতদের উদ্ধার অভিযান চলবে। তারপর জীবিত আর কারো আটকে পড়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। তাই শুক্রবারের পর থেকে কেবল লাশ উদ্ধার অভিযান চলবে। এখনো ধসে যাওয়া ভবনের নিচে অসংখ্য মানুষ আটকা পড়ে আছেন। তাদের উদ্ধারে তত্পর রয়েছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, আনসার, র্যাব, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন। রানা প্লাজার প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় বিপণী বিতান এবং তৃতীয় থেকে অষ্টম তলা পর্যন্ত পোশাক কারখানা ছিলো। এগুলো হলো- নিউ ওয়েভ বটমস লিমিটেড, নিউ ওয়েভ স্টাইল, নিউ ওয়েভ অ্যাপারেলস, ফ্যান্টম অ্যাপারেলস লিমিটেড, ফ্যান্টম ট্যাক লিমিটেড ও ইথার টেক্সটাইল লিমিটেড। এসব ফ্লোরের পাঁচটি কারখানায় পাঁচ হাজারেরও বেশী শ্রমিক কাজ করতেন। এছাড়া ভবনটিতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে আরো হাজারখানেক মানুষ ছিলেন। ভবন ধসের পরপরই আটকেপড়াদের বাঁচার আকুতি, বুকফাটা চিত্কারে মর্মস্পর্শী দৃশ্যের অবতারণা হয়। ধসেপড়া ভবনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বের হয়েছিল একেকটি হাত-পা। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন কেউ কেউ। অনেকের হাত-পা আবার নিস্তেজ। বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তাদের জোর করে পোশাক কারখানায় নেয়া হয়েছিল। তারা ভবনের ভেতরে প্রথমে ঢুকতে চাননি। কারণ আগের দিনই ভবনটির পিলার ধসের ঘটনা ঘটে। ভবন ধসের পরপরই স্থানীয় এলাকাবাসী ছুটে এসে উদ্ধার তত্পরতা শুরু করেন-এ যেন আপনজন উদ্ধারের আন্তরিক প্রয়াস। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকল বাহিনীর ১০টি ইউনিট। উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব সদস্য।