রানা প্লাজার নির্মাণ গাফিলতি তদন্তে কমিটি গঠন

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০০
সাভার পৌরসভা রানা প্লাজা ধসে পড়ার দায় চাপাতে চায় ভবন নির্মাতার ওপর। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সাভার পৌরসভার এই বক্তব্য এবং নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় গাফিলতি আছে কিনা তা তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (পৌর) মো. আখতার হোসেন এই কমিটির প্রধান। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। গত বুধবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সাভার পৌরসভা মেয়রের কাছে ওই ভবন নির্মাণ এবং নকশার অনুমোদন সম্পর্কে তাদের এখতিয়ার এবং এ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়ে পাঠায়। গতকাল বৃহস্পতিবার মেয়র আলহাজ্ব মো. রেফাত উল্লাহর পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭৭ সালে ইমারত নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশের ৯৮ ধারা এবং স্থানীয় সরকার পৌরসভা আইনের ৫০ (গ) এবং উপ-ধারা ৩৫ মোতাবেক পৌরসভাকে নকশা অনুমোদনের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। রানা প্লাজা নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড অনুসরণ, মাটি পরীক্ষা করা এবং অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কাজ করার শর্ত দেয়া হয়। এ বিষয়ে সকল দায়-দায়িত্ব ভবন নির্মাতার ওপর। এতে বলা হয়, ১০ তলা ভবন নির্মাণের লে-আউট প্ল্যান অনুমোদনের ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। ভবনের মালিকের নিয়োগপ্রাপ্ত নকশা প্রণয়নকারী ছিলেন এটিএম মাসুদ রেজা। তা প্রত্যয়ন করেন সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার হাজী মোহাম্মদ আলী খান। তদন্ত করে নকশা অনুমোদনের সুপারিশ করেন পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সহকরী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, নগর পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল হাসান। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান জানান, সাভার পৌরসভার দেয়া প্রতিবেদনের সত্যতা এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নতুন করে কমিটি করা হয়েছে। পৌরসভা ১০ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিতে পারে কিনা সে বিষয়েও কমিটি রিপোর্ট দেবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর কারো গাফিলতি প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।