বিজিএমইএ রানা প্লাজার পাঁচ কারখানার সদস্যপদ স্থগিত করেছে। সংগঠনের নির্দেশ অমান্য করে কারখানা চালু করার পর প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় এ পদক্ষেপ নেয়া হলো। সদস্যপদ স্থগিত হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইথারটেক্স, নিউ ওয়েভ বটমস, নিউ ওয়েভ স্টাইল, ফ্যানটম অ্যাপারেল ও ফ্যানটম লি:। এই প্রাণহানির ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ। এছাড়া সংগঠনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ সব কথা জানানো হয়। বুধবার সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় সেখানে অবস্থিত পাঁচটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। দুর্ঘটনার আগের দিন ভবনে ফাটলের সৃষ্টি হওয়ার পর কাজ করতে বিজিএমইএ নিষেধ করেছিল। কারখানার মালিকরা ভবন মালিকের ‘আশ্বাসে’ কাজ চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, আহত শ্রমিকদের সকল দায়-দায়িত্ব বিজিএমইএ গ্রহণ করেছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮১০ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এদের মধ্যে ১ হাজার ১২৮ জন প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। চিকিত্সারত অবস্থায় ১৬ জন মারা গেছে। অবশিষ্ট ৭০৯ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের কারখানায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে বিজিএমইএ তরফে।
সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিজিএমইএ ৩টি টিম গঠন করেছে। এই টিম পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। নিহতদের লাশ নিজ নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সাংবাদিক সম্মেলনে এ সময় বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি রিয়াজ বিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
