‘রানা যুবলীগের কেউ নয়’

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:২৭
সাভারে ভবন ধসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অনেককে টিভিতে বলতে দেখি রানা প্লাজার মালিক (সোহেল রানা) যুবলীগের নেতা। আমি সাভার পৌরসভার যুবলীগের কমিটির তালিকা এনেছি। সেখানে তার কোনো নাম নেই। সে আমাদের কেউ নয়। দল ক্ষমতায় আসলে অনেকেই ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় দেয়। তাছাড়া অপরাধী যেই হোক তাকে গ্রেফতার করা হবে।’ তিনি বলেন, এ ঘটনায় যারা জড়িত তারা যে দলেরই হোক না কেন তাদের খুঁজে বের করে আইনানুগ শাস্তি দেয়া হবেই। যারা এতোগুলো মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলেছেন, দলের দোহাই দিয়ে কেউ রেহাই পাবে না। তিনি বলেন, যারা মারা গেছে তাদের তো আর ফিরে পাব না, তবে তাদের পরিবার যাতে অসহায় হয়ে না পড়ে তার ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি পিলার ভেঙ্গে যাওয়ার পরও কারা ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শ্রমিকদের ঢুকিয়েছে—এটা বের করা হবেই। তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষদেরই রাজনীতি করি। তাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ভবন ধসের আগের দিনই ফাটল দেখা দেয়ার পর সেখানে পুলিশ পাহারা বসানো হয়। কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু বন্ধ করে দেয়ার পরও কীভাবে সেখানে পরের দিন শ্রমিক ঢুকিয়ে কাজ করানো হলো? তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি যে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সেখানে কাজে ঢুকতে বাধ্য করেছে। উদ্ধার কাজে সহায়তায় হরতাল প্রত্যাহার করায় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে আবারো ধন্যবাদ জানান। তবে উদ্ধার কাজ চলা অবস্থায় বিরোধী দলীয় নেত্রী সেখানে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবন ধসের ঘটনার পর মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে উদ্ধার কাজ শুরু হয়। এ উদ্ধার কাজে আমাদের দমকল, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। সেই সঙ্গে আমাদের ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও সাধারণ জনগণ তাদের সহায়তা করেছে। ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে সাভারে আমাদের সংসদ সদস্য, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ছুটে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে আমি সেনাবাহিনী তলব করি। আমি নিজে সার্বক্ষণিক বিষয়টি তদারকি করেছি। ওই এলাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক কথা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক সার্বক্ষণিক সেখানে আছেন। এছাড়া সেনাবাহিনীর নয়পদাতিক ডিভিশন, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস প্রধানগণ এলাকা পরিদর্শন করে সর্বশেষ অবস্থা আমাকে অবগত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা বিমান বাহিনীর কাছ থেকে অক্সিজেন, এসএসএফের কাছ থেকে সার্চ লাইট এনে সেখানে দেয়া হয়েছে-যাতে জীবিতরা উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। মেঘনা ঘাট থেকে কংক্রিট হেকিং মেশিন আনা হয়েছে। সেনাবাহিনীর উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য সকল যন্ত্রাংশ আনা হয়েছে। উদ্ধার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সবাইকে উদ্ধার করার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮শ’ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এত অল্প সময়ে এতগুলো মানুষকে উদ্ধার করা পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই। হরতাল থাকায় উদ্ধার তত্পরতায় কিছু সমস্যা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ উদ্ধার কাজটি এত কষ্টকর ছিল যে, একটি ভবন ধসে পড়েছে। কোথায় হাত দিলে যদি আরেকটি ভেঙ্গে পড়ে সে আশঙ্কায় সাবধানে কাজ করতে হয়। উদ্ধারের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু লোকের হাত আটকে গেছে, পা আটকে রয়েছে। এ রকম অনেককে হাত কেটেও বের করা হয়েছে। কারণ তার জীবনতো বাঁচাতে হবে। ধ্বংস্তূপের কাছে জনগণকে ভিড় না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকে অতিরিক্ত উত্তেজনা দেখিয়ে সেখানকার গাড়ি ও ভবন ভাংচুর করছে। ক্ষতিতো আমাদের সবার। আপনারা শান্ত থাকুন। উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করুন। গার্মেন্টস শ্রমিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উদ্ধার কাজে কোন গাফিলতি হচ্ছে না। ভাংচুর করে, আগুন জ্বালিয়ে উদ্ধারে বাধাগ্রস্ত থেকে বিরত থাকুন।