‘সবসময়ই স্কুলের এই লক্ষ্য থাকা উচিত যে একজন তরুণ যেন স্কুলজীবন শেষে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নয়, এক সুসঙ্গত ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে ওঠে।’—আইনস্টাইন
আমাদের স্কুলজীবন ছিল যেন এর বিপরীত। অসংখ্য অদ্ভুত তথ্য মুখস্থ করা আর নাম্বার পাওয়ার জন্য একে অন্যের সঙ্গে কাড়াকাড়ি, হুড়োহুড়ি। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে আজ বুঝি কেমন ছিলাম তখন। খুব বেশিদিন হয়নি স্কুলের দিনগুলি ফেলে আসার। আমি ২০০৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলাম।
সবার মুখে শুনি বদলে গেছে পদ্ধতি অনেক—সব এখন সৃজনশীল পদ্ধতিতে। কিন্তু আমার ছোট ভাইবোন যারা স্কুলে পড়ছে তাদের দেখে আমার মনে কিন্তু কিছু প্রশ্ন বারবার উঁকি দিয়ে যায়। অযথা তথ্য গেলানো আর কেবল নাম্বার দিয়ে সুসঙ্গত ব্যক্তিত্ব পরিমাপের চেষ্টা কি বদলে গিয়েছে বা বদলাচ্ছে? পড়ালেখায় কি আনন্দ আসছে? তার জন্য কি কোনো আয়োজন হয়েছে? পাঠ্যবইয়ের পাশে অপাঠ্য (!) বইয়ের সংগ্রহ কি থাকছে স্কুলগুলোতে? পড়ার পাশাপাশি একটুখানি সময় প্রকৃতির সঙ্গে মেশার সুযোগ কি থাকছে? শ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদগণ কি এ বিষয়টির দিকে খেয়াল রাখবেন?
‘সৃজনশীলতা’ সম্পর্কে আমার ধারণা ভুল হতে পারে। কিন্তু কতগুলো কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা করার আগে এই আনন্দময় পরিবেশের ব্যবস্থা করা কি সৃজনশীলতা বিকাশে বেশি জরুরি নয়? সম্মানিত শিক্ষক-অভিভাবকরাও ভেবে দেখবেন আশা করি। কারণ সৃজনশীলতার নামে যদি আমরা আজ ভুল করে তরুণ মনের ওপর কেবল পরীক্ষার ভার চাপিয়ে দিতে থাকি তার ফলাফল শুভ হবে বলে মনে হয় না। আমি আমার চারপাশ দেখে একটা বিষয় নিশ্চিত বলতে পারি—এই শিক্ষা আমরা গ্রহণ করতে পারছি না। আমরা তরুণেরা ক্লান্ত।
আইনস্টাইনের আরেকটি উক্তি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে— ‘শিক্ষাদানের পন্থা এমন হওয়া উচিত, যাতে যা শেখানো হচ্ছে, সেটিকে তরুণেরা কঠোর কাজ হিসেবে নয়, মূল্যবান উপহার হিসেবে গণ্য করতে পারে।’
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
