কুর্দির বিদ্রোহী দল পিকেকে (কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি) আগামী মে মাসের শুরুতেই তাদের যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দলের সামরিক কমান্ডার মুরাত কারালাইন গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সামনের মাসের ৮ তারিখ থেকেই পিকেকে যোদ্ধারা তুরস্ক ছাড়া শুরু করবে।
মুরাত বলেন, ধাপে ধাপে তাদের যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করে নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং যত শিগগিরই সম্ভব এ প্রক্রিয়া শেষ হবে। আঙ্কারার সঙ্গে শান্তি চুক্তির আওতায় কারারুদ্ধ থাকা পিকেকে নেতা আবদুল্লাহ ওসালানের ডাকা যুদ্ধবিরতির পরিপ্রেক্ষিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হলো। তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি জাতিগত কুর্দিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য ত্রিশ বছরের লড়াইয়ে দেশটিতে প্রাণ হারিয়েছে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ। আল জাজিরার প্রতিবেদক জেন আরাফ বলেন, ইরাকের উত্তরাঞ্চলে পিকেকে’র পার্বত্যাঞ্চলীয় ঘাঁটি কান্দিলে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের সামরিক প্রধান মুরাত বলেন, নির্দিষ্ট সময়েই তাদের যোদ্ধাদের প্রত্যাহার কাজ শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা চলতে থাকবে। তিনি বলেন, ওই তারিখে পিকেকে যোদ্ধাদের প্রত্যাহার শুরু হয়ে তারা তুরস্ক ছেড়ে ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুর্দিস্তানে চলে যাবে।
কিন্তু পিকেকে গেরিলাদের ওপর কোনোরকম হামলা বা অভিযান চললে তাত্ক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়া হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, তুর্কি সেনাবাহিনী যদি কোনো রকম উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে এ প্রত্যাহার বাতিল হয়ে যাবে। প্রত্যাহারের এ পদক্ষেপে ঠিক কত সংখ্যক গেরিলা যাবে সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে তাদের সদস্যদের প্রত্যাহার কাজ শেষ হতে কয়েক মাস সময় লেগে যাবে। উল্লেখ্য তুরস্কের কারাগারে ১৯৯৯ সাল থেকে আটক কুর্দি গেরিলা নেতা আবদুল্লাহ ওসালান গত মার্চ মাসের ২১ তারিখে যুদ্ধবিরতির ‘ঐতিহাসিক’ আহ্বান জানান। তারই ধারাবাহিকতায় এই প্রত্যাহার কাজ শুরু হচ্ছে।
