গ্যাস জরিপকালে শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণে সিলেটের বিশ্বনাথে কমপক্ষে অর্ধশত বাড়ি-ঘর ও মসজিদ-মাদ্রাসা ভবনে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে ভুক্তভোগী গ্রামবাসী বৃহস্পতিবার স্থানীয় পনাউল্ল¬া-রামপাশা-কামালাবাজার-সিলেট সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা গ্যাস অনুসন্ধানকারী কোম্পানি শেভরনের ছয়টি গাড়ি আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত ছিল বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী জানান, তিন মাস আগে শেভরন উপজেলার অলংকারি, খাজাঞ্চি ও লামাকাজি ইউনিয়নে গ্যাস অনুসন্ধান জরিপ শুরু করে। শেভরনের হয়ে জরিপ কাজটি করছে অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি জিও কাইনেটিক। তবে স্থানীয়দের বিষয়টি অবহিত করা হয়নি। কোন লিখিত চুক্তি কিংবা ক্ষতিপূরণ প্রদান ছাড়াই তারা বিভিন্ন ফসলি জমি ও বাড়িঘরের আশপাশে ৭১ ফুট মাটির নিচে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। গত সোমবারও খাজাঞ্চি ইউনিয়নের বন্ধুয়া গ্রামের শুকুর আলীর বাড়ি থেকে প্রায় দুইশত গজ দূরে আনুমানিক দুই কেজি ওজনের শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। একই ভাবে গ্রামের আবদুল্ল¬ার বাড়ির পাশেও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় বোমার বিস্ফোরণে মাটিসহ বাড়িঘর কেঁপে উঠলে ভূমিকম্প মনে করে আতংকে স্থানীয়রা ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। ওই বিস্ফোরণের পরে এলাকার বাড়িঘরের দেয়াল ও ছাদে ফাটলের সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ক্ষতিগ্রস্তরা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেও কোন ফল না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে শেভরনের লোকজন এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সময় তাদের ছয়টি গাড়ি আটক রেখে রাস্তা অবরোধ করেন।
জানা গেছে, গ্যাস জরিপের ফলে অলংকারি ইউনিয়নের বড় খুরমা ইসলামী একাডেমী ও মাদ্রাসা, বড় খুরমা গ্রামের খোয়াজ আলী, জমির আলী, আশরাফ আলী, সানুর আলী, মখবুল হোসেন, আবদুর রাজ্জাক, ছোরাব আলী, বন্ধুয়া গ্রামের মন্তাজ আলী, সোনাফর আলী, ইলিয়াস আলী, মানিক মিয়া, ফারুক মিয়া, চান মিয়া, কাচা মিয়া, সোনা মিয়া, আবদুল করিম, ইছবর আলী, লিলু মিয়া, রুমন আলী, সিদ্দেক আলী, তজম্মুল আলীর বাড়িসহ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘরে ফাটল দেখা দেয়।
বড় খুরমা গ্রামের মন্তাজ আলী, সোনাফর আলী সাংবাদিকদের জানান, জমিতে ‘বোমবিং’ করায় বাড়ি-ঘরে ফাটল দেখা দেয়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষে অবহিত করা হলেও তারা কোন ক্ষতিপূরণ না দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
খাজাঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজামউদ্দিন সিদ্দিকী বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে দেয়ালে ফাটল দেখতে পেয়েছেন। অলংকারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিলু মিয়া বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করছি। দেখা যাক কি হয়।
এ বিষয়ে জানতে শেভরন কোম্পানির এক কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, ‘শেভরন সরকারি কাজ করছে। এখানে আমাদের কিছু বলার নেই।’
বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনামনি চাকমা এ ব্যাপারে ইত্তেফাককে বলেন, গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ প্রায় ৭৫ ভাগ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কেউ লিখিতভাবে কোন অভিযোগ করেননি। আর ফাটলগুলো দেখে মনে হচ্ছে অনেক আগের। হঠাত্ এলাকাবাসী শেভরনের গাড়ি আটকে সরকারি কাজে বাধার সৃষ্টি করছে। তবে তিনি আশ্বাস দেন, গ্যাস অনুসন্ধানকালে ফাটল হয়েছে তদন্তে প্রমাণিত হলে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা করবে সরকার।
