মানুষের জন্য এগিয়ে এসেছেন শত শত মানুষ

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৭
সাভার রানা প্লাজার ট্র্যাজেডি দেশব্যাপী এমন কোন পেশার লোক নেই যার হূদয় কেড়ে নেয়নি। ঘটনার পরপর আটকে পড়াদের জীবিত কিংবা মৃত অবস্থায় উদ্ধারে সেনা, নৌ, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, র্যাব ও উদ্ধারকারীদের সঙ্গে শত শত তরুণ, গার্মেন্টস কর্মী ও আশপাশের নানা পেশার মানুষ যোগ দেয়। তাদের হাতে উদ্ধারের তেমন কোন যন্ত্রপাতি নেই। শাবল, টর্চ লাইট, দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পাওয়ার এয়ার ফ্রেশনার নিয়ে ঢুকে পড়েছে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা দলে দলে উদ্ধার কাজে নামছে। জীবনের মায়া ত্যাগ করে হতাহতদের উদ্ধারে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। এ দৃশ্য চোখে একবার দেখলে বিবেক নাড়া দেয়। ‘মানুষ মানুষের জন্য’ কথাটির অনন্য উদাহরণ এটি। ধ্বংসস্তূপে পড়ে তারা মারা যেতে পারে। তাদের এ ধরনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার নেই কোন প্রশিক্ষণ কিংবা অভিজ্ঞতা। হূদয়ের টানে, বিবেকের তাড়নায়, একজন মানুষ হয়ে আরেক মানুষের জন্য জীবন বিসর্জন দিতে একটু দ্বিধা করে না তারা। কেউ পানি, জুস, বিস্কুট, স্যালাইনসহ খাদ্যসামগ্রী দিয়ে ধ্বংসস্তূপের পাশে ভ্যান কিংবা যানবাহন যোগে এনে দিয়ে যাচ্ছেন নিয়োজিত উদ্ধার কর্মীদের কাছে। কেউ বসে নেই। অলি গলিতে বালতি ভর্তি ঠাণ্ডা পানি, সরবত ও জুস দিয়ে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে আসা নারী-পুরুষদের আপ্যায়ন করতে দেখা যায়। নগদ আর্থিক সাহায্য করতে দেখা যায় ঐ সমস্ত গরিব বাসিন্দাদের। কোন কোন বাসা বাড়ি কিংবা ভবন মালিক বাসায় নিয়ে দিন-রাত খাওয়াচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত মজুমদারের নেতৃত্বে একটি স্বেচ্ছাসেবক দল ধ্বংসস্তূপে হতাহতের উদ্ধারে অংশ নেন। তিনি বলেন, এভারেস্ট বিজয়ের চেয়ে এ উদ্ধারের মত একটি মহান কাজে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি গর্বিত। সেইফ ট্রাস্ট নামের আরও বেসরকারি সংস্থা উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করেছে। ট্রাস্টের কর্মকর্তা মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে চলছে ২ দিনব্যাপী উদ্ধার কাজ। সাভার সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরে সকল বেসরকারি ক্লিনিক দিন-রাত আহতদের চিকিত্সাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। স্বজনদের খাওয়াচ্ছেন। এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাসেবা দিয়ে যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ তা কোন ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। ৭৫০ বেডের এ হাসপাতালটিতে গতকাল পর্যন্ত এক হাজার ৫০ জন চিকিত্সা সেবা পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চিকিত্সাধীন রয়েছেন ৪১১ জন। ওষুধপত্রসহ সব ধরনের জটিল অপারেশন সেখানে করা হচ্ছে দিন রাত। এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মালিক ডা. এনামুর রহমানের নেতৃত্বে চিকিত্সক কর্মকর্তা ও নার্স কর্মচারী রানা প্লাজায় আহতদের বিরতিহীনভাবে চিকিত্সাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল আনসার ও ভিডিপির পক্ষে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে আহতদের চিকিত্সাসেবার জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।