চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকায় অবস্থিত নাহার এগ্রো হ্যাচারি কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে এলাকাবাসীর দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ ৪০ জন আহত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মস্তাননগর হাসপাতাল ও স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন গ্রামবাসী শাহাদাত্ হোসেন, মোহাম্মদ হাশেম, জামাল উদ্দিন, শামসুল আলম, আবু তাহের, মো. আরিফ, সালাহ উদ্দিন, শাহ আলম, আশরাফ উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, রুজিনা আক্তার ও নাজমা বেগম, নাহার পোল্ট্রির কর্মচারী সাইফুল ইসলাম, নুরুল মোস্তফা, নাছির উদ্দিন, নেছার আহম্মদ, আনিসুর রহমান, আবু নোমান, সজিব, জোবাইদ ও খলিল। এসময় হ্যাচারির কর্মচারী আবুল বশরের বাড়িতে হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেন নাহার এগ্রো হ্যাচারির এমডি রাকিবুর রহমান টুটুল।
জানা গেছে, উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাহাড় গ্রামে (মস্তাননগর) অবস্থিত নাহার এগ্রো হ্যাচারিজ এন্ড পোল্ট্রি লিমিটেডের সাথে দীর্ঘদিন ধরে যত্রতত্র বর্জ্য নিক্ষেপ, হ্যাচারিজের হাই ভোল্টেজ ৬টি জেনারেটরের বিকট শব্দ এবং গ্রামের একমাত্র চলাচলের রাস্তা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বেশ কয়েক দফা উভয় পক্ষের মধ্যে বৈঠকও করেছেন। শুক্রবার সকালে ফরেস্ট অফিসের সড়কে ব্যারিকেড দেয় এলাকাবাসী। এসময় এলাকাবাসী নাহার এগ্রোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে। এরপর নাহার এগ্রোর কর্মচারীরা ব্যারিকেড তুলতে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে দুপুরে মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন, মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসান ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকসুদ আহাম্মদ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী অবরোধ প্রত্যাহার করে। এ প্রসঙ্গে নাহার এগ্রো হ্যাচারিজ এন্ড পোল্ট্রি লিমিটেডের এমডি রাকিবুর রহমান টুটুল বলেন, ‘আমরা এখানে ব্যবসা করতে এসেছি কারো সাথে মারামারি করতে আসিনি। গ্রামের কিছু লোকজন আমার শ্রমিকদের ওপর হামলা করেছে, তারাও পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে।’ এসময় তিনি নাহার এগ্রোর ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছে বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসী ও নাহার এগ্রো কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আগামী তিন দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান করবো আশ্বাস দেয়ার পর এলাকাবাসী সড়ক থেকে ব্যারিকড তুলে নেয়। তিনি আরো বলেন, যা ঘটে গেছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতিও স্বাভাবিক।
