প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারের ধসে পড়া রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই ভবনের পাঁচটি পোশাক কারখানার মালিকদেরও দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ ইত্তেফাককে একথা জানিয়েছেন।
সোহেল রানাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ঘটনার দিন গত বুধবার সকালে। তখন তিনি পৌর যুবলীগের পক্ষে হরতাল বিরোধী একটি মিছিল বের করার জন্য রানা প্লাজার সামনে তার অনুসারীদের নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সকাল ৯টায় যখন ভবন ধসে পড়ে তখন তিনি ওই ভবনের নিচেই ছিলেন। পরে জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য আটকা পড়ার নাটক সাজিয়ে এনাম মেডিক্যাল হাসপাতালে যান। এক পর্যায়ে তিনি গা-ঢাকা দেন। এরপর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে।
সাভার পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সোহেল রানার মালিকানাধীন ওই ভবনে গত মঙ্গলবার ফাটল দেখা দিলে শিল্প পুলিশ ভবনে কাজ বন্ধ করতে বললেও বুধবার সকালে কারখানাগুলোতে কাজ শুরু হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ তাদের কারখানায় ঢুকতে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনায় রানা ও গার্মেন্টস মালিকদের আসামি করে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। ওই ভবনের কারখানাগুলোর মধ্যে নিউ ওয়েভ বটমস ও নিউ ওয়েভ স্টাইলের মালিক মাহবুবুর রহমান তাপস ও বজলুস সামাদ আদনান। ফ্যানটম অ্যাপারেলস ও ট্যাকের মালিক মো. আমিনুল ইসলাম। আর ইথারটেক্সের মালিক মো. আনিসুর রহমান।
উল্লেখ্য, সাভারে যুবলীগ দুই ভাগে বিভক্ত। পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে সোহেল রানা দীর্ঘদিন যাবত্ বিভিন্ন তত্পরতা চালিয়ে আসছিলেন। ২৭ এপ্রিল পৌর যুবলীগের কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য এ কাউন্সিল স্থগিত করা হয়েছে।
