সাভার বাজার রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপে আটকে আছে অনেক গার্মেন্টস কর্মী। ভেতর থেকে মাঝে মাঝে ফোনে স্বজনদের কিংবা পিতা-মাতা, ভাই-বোন, সন্তান অথবা জীবিত সহকর্মীদের কাছে ফোন আসে আমরা এখনো বেঁচে আছি। দয়া করে উদ্ধারের ব্যবস্থা করো। এ কথা বলার পর টেলিফোন লাইন কেটে যায়। তারা আটকেপড়া জীবিতদের উদ্ধারে ছুটে যান উদ্ধারকারী দলের কাছে। আবেদন জানান স্যার আমার ভাই-বোন, পিতা-মাতা কারো সন্তান বেঁচে আছে। দয়া করে উদ্ধার করুন। এমনকি গতকাল শুক্রবার বেলা ২টায় রানা প্লাজার পঞ্চম তলার ধ্বংসস্তূপে আটকে আছে গার্মেন্টস কর্মী সুরুজ (২৫)। তার জীবিত থাকার সংবাদ পায় স্বজনরা। ছুটে যান উদ্ধারকারী কর্মীদের কাছে। আপন মমতায় দিন রাত কাজ করছেন একদল তরুণ। সাভার চাপানি এলাকার আহাদুজ্জামান নামের তরুণ এ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা সুরুজের কাছে গিয়ে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের ইট আস্তর সরিয়ে ছোট সুড়ং করে সুরুজের কাছে পৌঁছে। সঙ্গে ফায়ার কর্মীরাও যোগ দেন। এক ফায়ার কর্মী পাশে একটি লাশের ওপর বসে সুরুজকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। ঐ সময় ৫ তলার সিঁড়ি বেয়ে হাজির হন ইত্তেফাকের এ প্রতিনিধি। সুরুজের কাছে গিয়ে তার বিষয়টি জানতে চান। উত্তরে সুরুজ তার নাম ও বাড়ি বগুড়া বলে জানান। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সুরুজ বলে উঠে ভাই আমাকে বাঁচান। আমার জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাকে উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারী দল। সুরুজের ভাগ্যে কি ঘটবে কে জানে? বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে জানতে পারেন, সুরুজকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আহাদ জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে উদ্ধারের একটি সুযোগ করা হয়। হঠাত্ একটি বড় বিম এসে সুরুজের কোমরের উপর পড়ে। তার পা দুইটি গুঁড়া হয়ে থেঁতলে যায়। তারপরও সুরুজ থেমে নেই, ভাই ভাই আমাকে বাঁচান বলে চিত্কার করছে। সুরুজের পা দুটো কেটে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। চিকিত্সক ঘটনাস্থলে এসে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন বলে আহাদ জানান। আহাদের সঙ্গে থাই এ্যালুমোনিয়ামের শ্রমিক জান্নাত, অটোবির শ্রমিক সুলতান, মাদ্রাসার শিক্ষক মাহমুদুর রহমান রয়েছে এ মহান কাজে। সুরুজের পাশে চারজন মহিলার মৃত্যু হয়েছে বলে সুরুজ জানিয়েছে।
