আজ ও আগামীকাল রবিবার সারাদেশে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র সদস্যভুক্ত সব গার্মেন্টস কারখানা উভয় সংগঠনের নেতারা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সাথে সাভারের রানা প্লাজার মালিক ও ৫ টি গার্মেন্টস কারখানার মালিকদের অতিদ্রুত আইনের কাছে আত্মসমর্পণের আহবান জানানো হয়েছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে বিজিএমইএ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রকৌশলীদের দিয়ে সব গার্মেন্টস কারখানার ভবনের কাঠামোর নকশা পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুর্ঘটনায় কবলিত ৫ পোশাক কারখানার সব শ্রমিকের পাওনাদি পরিশোধ করা হবে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে গতকাল শুক্রবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম। সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, উদ্ধার কাজ এবং আহত শ্রমিকদের যথাযথ চিকিত্সা নিশ্চিত করার স্বার্থে দুই দিন কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এদিকে সাভারের ভবন ধসের কারণে হতাহতের প্রতিবাদে গতকাল সারাদিন রাজধানীসহ আশেপাশে পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় তারা রাস্তা অবরোধ করে এবং বিভিন্ন কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ অবস্থায় গার্মেন্টস মালিকরা দফায় দফায় বৈঠক করেন।
সংবাদ সম্মেলনে দুর্ঘটনায় কবলিত পোশাক কারখানার মালিকদের অতিদ্রুত আইনের কাছে সোপর্দ করার আহবান জানিয়ে বলা হয়, বিজিএমইএ অন্যায়কে সমর্থন করে না। মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহায়তা করারও আশ্বাস দেয়া হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, রানা প্লাজায় গার্মেন্টস কারখানায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা, তাদের পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তিকে চাকরি প্রদান এবং আহত শ্রমিকদের যারা কর্মক্ষমতা হারাবেন, তাদের পুনর্বাসন করা হবে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, আব্দুস সালাম মুর্শেদী, আনিসুল হক, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা তপন চৌধুরী, বিকেএমইএ’র সভাপতি সেলিম ওসমানসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ।
