রাজধানী ঢাকার সাভারে একটি বহুতল ভবন ধসে তিন শতাধিক লোক নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশে শ্রমিকদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার অধিকার ব্যাহত করার সরকারি প্রচেষ্টাও বন্ধ হওয়া উচিত বলে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ’র বিবৃতিতে বলা হয়, সাভারের রানা প্লাজায় পাঁচটি গার্মেন্টস ছিলো। বুধবার সকাল ৯টার দিকে ভবনটি ভেঙে পড়ে। এতে নিহতদের বেশির ভাগই গার্মেন্টস শ্রমিক। অনেক মানুষ এখনো ধংসস্তূপে আটকা পড়ে আছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ধসে পড়া ভবনের তৃতীয় তলার পিলারে ফাটল দেখা দেয়। তখনই কর্তৃপক্ষ ওই ভবনের থাকা চারটি গার্মেন্টসে ছুটি দিয়ে দেয়। কাজে যেতে অনিচ্ছুক থাকলেও পরদিন গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ সব শ্রমিককে কাজে যোগ দেয়ার জন্য চাপ দেয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশীয় পরিচালক ব্রাড এডামস বলেন, বাংলাদেশে কারখানায় শ্রমিক নিহতের দীর্ঘ রেকর্ড রয়েছে। এ ট্র্যাজেডিও অনুমেয় ছিল। প্রকৃতপক্ষে সারা বিশ্বে পোশাকের যারা যোগান দেয় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ২০০৫ সালের এপ্রিলে সাভারে আরেকটি কারখানা ভেঙে ৭৩ জন নিহত হয়। ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় কারখানা ধসে ১৮ জনের মৃত্যু হয়। ২০১০ সালে ২৫ জন, ২০১২ সালে আগুনে ১০০ জনের বেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
এইচআরডব্লিউ বলছে, বাংলাদেশে কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি তদারকির ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা লঙ্ঘনের কারণে আইন অনুযায়ী যে জরিমানা করা হয় তা অতি সামান্য। বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের সরকারগুলো মুখে শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা বলেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কারখানার মালিকদের কথাই আমলে নিয়েছে নীতি-নির্ধারকরা।
এডামস বলেন, রানা প্লাজায় কোনো একটি গার্মেন্টসেও যদি শ্রমিক ইউনিয়ন থাকতো তাহলে কাজে যোগ না দেয়ার জন্য তারা দাবি জানাতে পারতো। এ ট্রাজিডি বলে দেয়, শুধু ভালো বেতনের জন্য নয় জীবন বাঁচানোর জন্যও বাংলাদেশে শ্রমিক ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করা উচিত। এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় দোষী মালিকের শাস্তি হয়েছে এমন কোনো দৃষ্টান্তের কথা জানা নেই। বাংলাদেশে অনেক গার্মেন্টস মালিক এখন সংসদ সদস্য বা প্রধান রাজনৈতিক দলের সদস্য। ২০১১ সালে সরকারের এক মন্ত্রী সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করা অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব কারণ মালিকদের অনেকেই রাজনৈতিক দলের সিনিয়র সদস্য। এইচআরডব্লিউ আরো বলেছে, গত বছর গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম নিহত হলেও এখন পর্যন্ত এর জন্য দায়ী কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ১২ জনের বেশি শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।
