কমিউনিটি সেবার মাধ্যমে শেখা

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:১০
যদিও খুবই অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা প্রায় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কমিউনিটি সেবায় অংশগ্রহণ করে থাকে, তবুও কমিউনিটি সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখানো আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত কোন ধারণা নয়। আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম দিক হলো যেকোনো দুর্যোগে একে অন্যর পাশে দাঁড়ানো। উদাহরণস্বরূপ বর্তমানে ‘সাভার ট্র্যাজেডি’ এর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে যেখানে সবস্তরের জনগণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দুর্গতদের সেবা প্রদান করছেন। বাংলাদেশ যেহেতু দুর্যোগপ্রবণ দেশ সেহেতু শিক্ষার্থীরা প্রায় বিভিন্ন দুর্যোগকালীন সময়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কমিউনিটি সেবায় অংশগ্রহণ করে থাকে। তবে এখন পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কমিউনিটি সেবা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। যে কারণে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কমিউনিটি সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখানো অনেকের কাছেই অপরিচিত। উন্নত বিশ্বসহ বিশ্বের অনেক দেশে কমিউনিটি সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখানোর বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ধারণায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। সেখানে কমিউনিটি সেবার বিষয়টিকে শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসাবে বিবেচিত হয়, কারণ কমিউনিটি সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। যে কারণে শিক্ষার্থীরাও কমিউনিটি সেবায় অংশগ্রহণের প্রতি উত্সাহিত হয়। কমিউনিটি সেবায় অংশগ্রহণ নানা প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে হতে পারে। যেমন বলা যেতে পারে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, টি আই বি, রেড ক্রিসেন্ট কিংবা বিভিন্ন দেশিয় সংস্থা যেমন এনজিও এবং সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিভিন্ন উন্নয়ন ও সচেতনামূলক কার্যক্রমের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করা এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা। কমিউনিটি সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রধানত সামাজিক ও বিশ্বনাগরিকের বিভিন্ন গুণাবলি অর্জন করে থাকে। যখনই কোনো শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কমিউনিটি সেবায় অংশগ্রহণ করে তখন সে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন মূল্যবোধ ও আদর্শ শেখে। যে কারণে তার মধ্য সমাজ ও দেশের প্রতি একদিকে যেমন দায়িত্ব বাড়ে, অন্যদিকে বিশ্ব নাগরিকের প্রয়োজনীয় গুণাবলি তার মধ্য প্রসারিত হয়। এছাড়া কমিউনিটি সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্য নেত্রিত্বের গুণাবলি তৈরি হয়। একটি বিশেষ পরিস্থিতে কি ধরনের দায়িত্ব পালন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত সে শিক্ষা শিক্ষার্থীরা কমিউনিটি সেবার মাধ্যমে গ্রহণ করে থাকে। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ক্লাব, থিয়েটার, এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সক্রিয় থাকলেও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এজাতিয় কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায় না। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রায় নানা ধরণের কমিউনিটি সেবায় অংশগ্রহণ করে, তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সে সমস্ত শ্রমের মূল্য না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় এজাতিয় কাজে অংশগ্রহণে যথেষ্ঠ উত্সাহিত হয় না। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে একদিকে যেমন এ জাতিয় সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও উত্সাহ দেয়া প্রয়োজন, তেমনই কমিউনিটি সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিকরূপ দেয়ার জন্য সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থাকেও এগিয়ে আসতে হবে। লেখক: আরিফুল হক কবির, শিক্ষক শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়