‘কোয়ার্ট’ কিবোর্ডের বিকল্পে ‘ক্যালক’ উদ্ভাবন

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:১২
উনবিংশ শতাব্দীতে মূলত টাইপরাইটের জন্য উদ্ভাবন করা হয় ‘কোয়ার্ট’ কিবোর্ড। পরবর্তীতে পিসির সাথে কিবোর্ড সংযুক্ত করতে গিয়েও এই লেআউটটিই বেছে নেন বিজ্ঞানীরা। যার ফলে সারা বিশ্বের মানুষের কাছেই অত্যন্ত সুপরিচিত এই লেআউট। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই কিবোর্ড লেআউট রাজত্ব করলেও শেষ পর্যন্ত বোধহয় সময় হয়েছে এর অবসর নেওয়ার। সময়ের সাথে সাথে যেমন পিসি’র বিক্রি কমে বাড়ছে ট্যাবলেট পিসি বা স্মার্টফোনের মতো টাচ ডিভাইসের বিক্রি। আর টাচ স্ক্রিনে টাইপ করতে গেলে প্রচলিত ‘কোয়ার্ট’ কিবোর্ড সাধারণ কিবোর্ডের মতো কার্যকর নয়। টাচ ডিভাইসে মূলত টাইপ করতে হয় দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে। আর তাই এভাবে টাইপ করার জন্যই এবারে ‘কোয়ার্ট’ কিবোর্ডের বদলে নতুন এক কিবোর্ড লেআউট উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই লেআউটে টাচ স্ক্রিনের একদম নিচের সারিতে ডান পাশের শেষ চারটি অক্ষর বসানো হয়েছে কে, এ, এল এবং কিউ। এই চারটি অক্ষর মিলিয়েই এই লেআউটকে উচ্চারণ করা হচ্ছে ‘ক্যালক’। টাচ ডিভাইসে কোন লেআউট ব্যবহার করলে টাইপিংয়ে সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়া যায়, সেটা নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেই এই লেআউট তৈরি করা হয়েছে। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ইনফরমেটিকস সেন্ট অ্যানড্রু এবং যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা টেকের গবেষকরা যৌথভাবে এই কিবোর্ড লেআউট উদ্ভাবন করেছেন। ভার্চুয়াল কিবোর্ড আকারে এই কিবোর্ডটি অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য। গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা নতুন এই কিবোর্ড লেআউট সম্পর্কে জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে টাইপের চাইতে দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে টাচ ডিভাইসে টাইপ করাটা সম্পূর্ণ আলাদা। ‘কোয়ার্ট’ কিবোর্ড ব্যবহার করে কিবোর্ডে অনেক গতি পাওয়া গেলেও টাচ ডিভাইসে এটি মিনিটে ২০ শব্দের চেয়ে বেশি গতি প্রদান করতে সক্ষম নয়। আর তাই তারা এর বদলে উপযুক্ত একটি লেআউট সন্ধান শুরু করেন। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পান, ইংরেজি বর্ণমালার স্বরবর্ণগুলো ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির আশেপাশে রাখলে টাচ ডিভাইসে বেশি গতি পাওয়া যায় টাইপিংয়ে। গবেষকরা জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ‘ক্যালক’ কিবোর্ড লেআউট ব্যবহার করে টাচ ডিভাইসে টাইপিংয়ে মিনিটে ৩৭ শব্দ পর্যন্ত গতি তুলতে পেরেছেন কয়েকজন ব্যবহারকারী। টাচ ডিভাইসের জন্য এটি আদর্শ হয়ে উঠবে বলেই আশাবাদ গবেষকদের।