এসো জেনে নিই

আঁকিয়ে এস এম সুলতানকে

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৩৩
প্রকৃতপক্ষেই আশা নামের এক অনির্বাণ শিখা কীভাবে শত কষ্টের মধ্যেও জয়মাল্য ছিনিয়ে আনে তার একটি উদাহরণ শিল্পী এস এম সুলতান। যশোরের নড়াইল জেলার মাসিমদিয়া গ্রামে নিম্নবিত্ত কৃষক পরিবারে ১৯২৪ সালে একটি শিশু জন্মগ্রহণ করে। পিতা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। প্রায় পাঁচ বছর বয়সে তাঁকে নড়াইলের ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি করে দেন; কিন্তু অভাব-অনটনের কারণে স্কুল ছেড়ে দিয়ে বাবার সাথে রাজমিস্ত্রির কাজে সহযোগিতা করেন। রাজমিস্ত্রির কারিগরি শিল্প থেকেই এক সময় শিশুটির মনে চিত্রশিল্পের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। কাঠ-কয়লা, কাঁচা হলুদ, পুঁই গাছের ফলের রস- এই ছিলো তাঁর আঁকার উপকরণ। তাঁকে তাঁর বাবা নাম দিয়েছিলেন “লাল মিয়া”। শিশুটির এই ছবি আঁকার আগ্রহ দেখে এগিয়ে আসেন স্থানীয় জমিদার ধীরেন্দ্রনাথ রায়। জমিদার বাবু লাল মিয়াকে ডেকে তাঁর ছবির প্রশংসা করেন এবং পুরস্কার স্বরূপ ছবি আঁকার রং, তুলিসহ স্কুলে ভর্তি করে দেন। কিশোর লাল মিয়া সেকালের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ এবং রাজনীতিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতি এঁকে খ্যাতি অর্জন করেন। স্কুলের পড়া ভালো লাগে না। তাই বাড়ি থেকে পালিয়ে ধীরেন্দ্রনাথ রায়ের লেখা চিঠি নিয়ে কলকাতায় চলে যান কবি এবং শিল্পকলা বিশারদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বড় ভাই শাহেদ সোহরাওয়ার্দীর নিকট। তিনি তাঁর আঁকা ছবি দেখে খুব খুশি হন। তাঁকে নিজ গৃহে আশ্রয় দেন এবং আর্ট স্কুলে ভর্তি করে দেন। তাঁর নাম রাখেন শেখ মুহম্মদ সুলতান সংক্ষেপে এস. এম. সুলতান; ১৯৫১ সালে করাচী যান এবং সেখানে অনেক স্বনামধন্য শিল্পীর সান্নিধ্যে আসেন। এরই মধ্যে তিনি দেশ-বিদেশে চিত্রশিল্পী হিসেবে সুনাম অর্জন করতে শুরু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ছবির প্রদর্শনী হয় এবং তাঁর আঁকা ছবিগুলোর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।