ইন্টারন্যাশনাল ফরচুন ম্যাগাজিন

ক্ষমতাধর সওদাগর নারী

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৪১
ছোটবেলায় নানী-দাদীর মুখে গল্প শুনেছি, পূর্বে রাজা-বাদশা এবং প্রভাবশালী ও ধণী শ্রেণীর লোকেরা সওদা করতে ছুটে বেরাত দেশ-দেশান্তরে। যখন ব্যবসা জগতে নারীদের অস্তিত্ব ছিল অবাস্তবতার নামান্তর। কালের পরিক্রমায় সেই অবাস্তবতাকে বাস্তবতায় রুপ দিয়ে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রশার ঘটিয়ে কতিপয় উজ্জ্বল তারকা সমতুল্য নারী স্থান করে নিয়েছেন বহুল আলোচিত ইন্টারন্যাশনাল ফরচুন ম্যাগাজিনে। লিখেছেন— মরিয়ম চম্পা শার্লি স্যান্ডবার্গ ৪৪ বছর বয়সী শার্লি স্যান্ডবার্গ হচ্ছেন বৈশ্বিক ও সামাজিক জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বর্তমান সিইও। প্রথমাবস্থায় গুগুলের সাথে যুক্ত থাকলেও কোন কারণ ছাড়াই ফেসবুকের সিইও হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে ফেসবুকের সেলস, মার্কেটিং হিউম্যান রিসোর্স, পাবলিক পলিসি এবং কমিউনিকেশন নিয়ে কাজ করছেন স্যান্ডবার্গ। ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর টেডএক্স সন্মেলনে এক বক্তৃতায় স্যান্ডবার্গ বলেন, আমরা বর্তমান সময়ের নারীরা খুবই ভাগ্যবান। দারুণ এক বিশ্বে আমাদের বসবাস। এমন বিশ্ব আমাদের নানী-দাদী কিংবা বাব- মায়েরাও পাননি। যখন নারীদের জন্য সব ধরনের সুযোগ ছিল সীমিত। আজকের উপস্থিত সকলেই কমবেশি অধিকারের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পেয়েছি। এত কিছুর পরেও নারীরা প্রফেশনের জায়গায় এখনও নিজের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। --- সাফ্রা ক্যাট্জ সাফ্রা ক্যাট্জ ১৯৬১ সালের ১ ডিসেম্বর ইসরাইলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৯ সালের এপ্রিলের শুরুতে ওরাকল কর্পোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। ২০১১ সালে ল্যারি এ্যলিসনের সিইও নির্বাচিত হন। ক্যাট্জ ১৯৮৩ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও ১৯৮৬ সালে পেনসিলভানিয়া ল’ স্কুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০১ সালে ক্যাট্জ ওরাকল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ২০০৪-এর শুরুর দিকে কোম্পানির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ক্যাট্জকে সফ্টওয়্যারের শক্তিশালী এম, এ মেশিনের স্রষ্টা বলা হয়ে থাকে, কারণ তার আবিষ্কৃত ১০টি সফ্টওয়্যার মেশিনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০০৫ সালে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের টপকে যার মূল্য নির্ধারণ হয় ১০.৩ বিলিয়ন ডলার। --- রোসালিন্ড ব্রিউয়ার্স শ্রীমতি রোসালিন্ড ব্রিউয়ার্স ২০১২ সালে ওয়াল মার্টের স্যামস ক্লাব সেগমেন্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি ওয়াল মার্ট স্টোর ইনকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১২ সালের শুরুর দিকে ওয়াল মার্টের ব্যবসা ইউনিটের সিইও এবং স্যাম’স ক্লাবের সভাপতি ও প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আফ্রো-আমেরিকান প্রথম নারী হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেন ব্রিউয়ার্স। স্যাম ওয়াল মার্টের বার্ষিক রাজস্বের ১২% উপার্জনের কৃতিত্ব পুরোটাই ব্রিউয়ার্সের। ২০১১ সালে যেখানে প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। তার ক্রমবর্ধমান সফলতা হচ্ছে তার কঠোর অধ্যবসায়ের চূড়ান্ত ফসল, যা তাকে এতটা উচ্চ পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। ব্রিউয়ার্স সর্বপ্রথম একটি কলেজে রসায়ন বিজ্ঞানী হিসেবে অধ্যয়নের মাধ্যমে তার কর্মজীবনের সূচনা করেন।