বোস্টন বিস্ফোরণের নেপথ্যে

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২২
বোস্টন বিস্ফোরণের ঘটনা হয়তো নাও ঘটতে পারতো, যদি আরেকটু সতর্ক থাকত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এমনটি মনে করার কারণ হলো, বিস্ফোরণে অভিযুক্ত দুই চেচেন সহোদর ভাইয়ের বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছিল রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি। শুধু তাই নয়, মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-ও জানিয়েছে, দেড়বছর আগে থেকেই সন্ত্রাসবাদীদের তালিকায় নাম ছিল বড়ভাই তামেরলান সারনায়েভের। গলদ যেখানে: বজ আঁটুনির ভেতরে ছোট্ট ফস্কা গেরো ছিল তামেরলান নামের বানান বিভ্রাট! এক পুরুষ আগে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিল বোস্টন বিস্ফোরণের অভিযুক্তরা। নিয়ম করে প্রতিবছর যেতেন নিজের দেশ চেচনিয়ায়। ১৯৯৪ সালে শুরু হওয়া প্রথম চেচেন যুদ্ধ ও তার পাঁচ বছর পরের দ্বিতীয় চেচেন যুদ্ধ তামেরলানের কাছে পশ্চিমারা হয়ে উঠেছিল জাতশত্রু। ২০১০ সালে চেচনিয়ায় গিয়ে প্রায় ছ’মাস সেখানে কাটিয়েছিল তামেরলান। সেই সময়েই রুশ গোয়েন্দাদের নজরে পড়ে সে। দিনের পর দিন তার গতিবিধির ওপর নজর রেখে এফএসবি নিশ্চিত হয় তার মানসিকতার পরিবর্তন নিয়ে। এর কয়েকদিনের মধ্যেই ২০১১ সালের মার্চ মাসে এফএসবি উপযাচক হয়েই এফবিআই গোয়েন্দাদের হাতে তামেরলানের সব তথ্য তুলে দিয়ে বিশেষ নজরদারির অনুরোধ করেছিল। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের বিশেষ ডাটাবেস ‘ট্রেজারি এনফোর্সমেন্ট কমিউনিকেশন সিস্টেম’ (টেকস)-এ অন্তর্ভুক্ত হয় তামেরলানের নাম। এই তালিকায় যাদের নাম থাকে তাদের আমেরিকায় ঢোকা বা বেরোনোর সময় খবর চলে যায় গোয়েন্দাদের কাছে। ওই বছরই সেপ্টেম্বরে রুশরা সিআইএ কর্তাদের জানায় তামেরলানের কথা। সিআইএর তালিকাতেও ওঠে তামেরলানের নাম, তবে অন্য বানান লেখা হয়। দুই তামেরলান যে আসলে একই ব্যক্তি তা নিয়ে শেষ পর্যন্ত একমত হতে পারেননি গোয়েন্দারা। তাই ২০১২ সালের জানুয়ারিতে চেচনিয়া গিয়ে জুলাই মাসে যখন ফের আমেরিকায় ঢোকে তামেরলান তখন তার কোনো খবরই পায়নি মার্কিন গোয়েন্দারা। সারনায়েভ ভাইদের সম্পর্কে আগে আরও অন্তত চারবার সতর্ক বার্তা উপেক্ষা করার ফল ভুগতে হয়েছে আমেরিকাকে। দাউদ গিলানি ওরফে ডেভিড হেডলি, আনোয়ার আল-আওলাকি, আবদুল হাকিম মোহম্মদ এবং নিদাল হাসান— এই তালিকায় যুক্ত আরও দু’টি নাম— তামেরলান ও জোখার সারনায়েভ। প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই আগাম খবর দেয়া হয়েছিল মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে। কিন্তু প্রতিবারই সতর্ক বার্তা উপেক্ষা করেছিল এফবিআই। তার মূল্য দিতে হয়েছে বোস্টনে। বিস্ফোরকের রসদ সংগ্রহ:বারুদের দোকানটির নাম ‘ফ্যান্টম ফায়ারওয়ার্কস’। এখান থেকেই বিস্ফোরণ ঘটানোর উপযুক্ত বারুদ কিনেছিল তামেরলান। ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখে ওই দোকান থেকে ‘লোড অ্যান্ড লক’ নামে এক ধরনের বিস্ফোরক কেনে সে। শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষের মতো সে-ও দোকানে এসে সবচেয়ে ‘শক্তিশালী বিস্ফোরকটি’ কিনতে চেয়েছিল। দোকানের হিসাব বলছে, প্রায় ২০০ মার্কিন ডলার দিয়ে ২৪টি বিস্ফোরকের একটি প্যাকেট কেনে তামেরলান। নগদ পয়সায় কেনার জন্য ২৪টি বিস্ফোরকের আরও একটি প্যাকেট ‘ফ্রি’ পায় সে। দু’বছর আগে নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য ওই একই সংস্থা থেকে বারুদ কিনেছিল ফয়সল শাহজাদ। ফলে বিচলিত হয়ে পড়েছেন ‘ফ্যান্টম ফায়ারওয়ার্কস’-এর কর্ণধাররা। বিস্ফোরক তৈরির নেপথ্যে : দু’টি প্যাকেট মিলিয়ে ৭০০ গ্রামের বেশি বারুদ জোগাড় করে তামেরলান। এরপর লোহার দোকান থেকে স্প্লিন্টার হিসেবে পেরেক ও বল বেয়ারিং কেনা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছিল দুই অভিযুক্ত। ইন্টারনেটে আল-কায়দা প্রকাশিত এক ই-ম্যাগাজিন ‘ইনস্পায়ার’ থেকে দুই ভাই শেখে বোমা তৈরির ঘরোয়া পদ্ধতি।