উচ্চশিক্ষায় এশিয়ার প্রাধান্য থাকবে

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৪
ইউরোপ বা আমেরিকা নয় ২০২০ সালের মধ্যে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে থাকবে এশিয়া। নির্দিষ্ট করে বললে তরুণ গ্রাজুয়েটের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হবে দু’টি দেশে। বিশ্বে মোট গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীর মধ্যে চীনের অবস্থান হবে এক ও ভারতের অবস্থান হবে দুই নম্বরে। ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান হবে পঞ্চম। এই সময়ে বিশ্বের প্রতি ১০ জন তরুণ গ্রাজুুয়েটের মধ্যে ৪ জন গ্রাজুয়েট আসবে চীন ও ভারত থেকে। অর্গানাইজেশন ফর ইকনোমিক কো-অপারেশন এন্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য। ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এশিয়ার অর্থনীতির গতি দ্রুততর হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীর ভারসাম্যে বিশাল ব্যবধান ঘটছে। ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী গ্রাজুয়েটদের মধ্যে চীনের গ্রাজুয়েট থাকবে ২৯ শতাংশ। আর যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাজুয়েটদের সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ১১ শতাংশে। ভারতের পেছনে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান গিয়ে দাঁড়াবে তৃতীয়ে স্থানে। এই সময়ে রাশিয়ার গ্রাজুয়েটও কমবে। গত একদশকে রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষিতের হার কমতে শুরু করেছে। উচ্চশিক্ষা, অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতার প্রতিচ্ছবি ও ঔজ্জ্বল্য প্রকাশ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র,পশ্চিম ইউরোপ, জাপান ও রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যাপক আধিপত্য দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনও কিছু ক্ষেত্রে সারাবিশ্বের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে অনন্য। বিশেষত সম্পদ, প্রভাব এবং সংখ্যার দিক দিয়ে। ২০০০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাজুয়েটের সংখ্যা ছিল চীনের সমান। এ সময় পর্যন্ত জাপান ও ভারতের গ্রাজুয়েটের সংখ্যা ছিল সমান। চীন ও ভারতের গ্রাজুয়েটের সংখ্যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাদের আকাঙ্ক্ষার পরিবর্তন ঘটছে। দেশ দু’টি অগ্রসর অর্থনীতির জন্য উচ্চপর্যায়ের দক্ষতা উচ্চআয়ের চাকরির জন্য প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে চাচ্ছে। স্বল্পআয়ের ম্যানুফ্যাকচারিং চাকরির চেয়ে এই দু’টি দেশের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য উচ্চ প্রযুক্তির পেশাদারী কাজ। এই বিশেষায়িত চাকরিগুলো পশ্চিমা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর হাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। ওইসিডির ওই বিশ্লেষণে এমনটি দেখানো হয়নি যে, এই সময়ে শুধু চীন শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়েছে বরং অন্য দেশগুলোরও অগ্রগতি হয়েছে। শিল্পায়িত পৃথিবীতে প্রায় প্রতিটি দেশেই গ্রাজুয়েটের সংখ্যা বাড়ছে। তবে সেটা কোনভাবেই চীনের মতো এতো দ্রুতগতিতে নয়। গত একদশকে চীনে গ্রাজুয়েটের সংখ্যা বেড়েছে ৫ গুণ। ওইসিডি জানিয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে চীনের গ্রাজুয়েটের জনসংখ্যা হবে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫-৬৪ বছর বয়সী মোট জনসংখ্যার সমান। এই পরিবর্তিত বিশ্ব মানচিত্রে দেখা যাবে ব্রাজিলের মোট গ্রাজুয়েটদের সংখ্যা জার্মানির চেয়ে বেশি। গ্রাজুয়েটের সংখ্যা স্পেনের চেয়ে বেশি হবে তুরস্কের। ইন্দোনেশিয়ার গ্রাজুয়েট ফ্রান্সের গ্রাজুয়েট থেকেও বেশি হবে। এই অবস্থার মধ্যে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর মধ্যে ভিন্ন অবস্থানে থাকবে যুক্তরাজ্য। তাদের মোট গ্রাজুয়েট ২০১০ সালের ৩ শতাংশ থেকে ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ৪ শতাংশে। গ্রাজুয়েটদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে একটি পরিষ্কার উদ্দেশ্য আছে, তা হলো অর্থনৈতিক কারণ। বিপুল উত্পাদন থেকে জ্ঞাননির্ভর অর্থনৈতিক পেশায় রূপান্তর মানেই হলো ভাল চাকরি ও ভালো আয়। তাই বিভিন্ন দেশকে শক্তিশালী প্রণোদনা দিতে হবে উচ্চশিক্ষার প্রসারে। এই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত তরুণরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট চাকরিতে যোগ দেবে। এই খাতে চাকরির হারও বাড়বে। পেশাদার ও প্রযুক্তিবিদদের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর চাকরি হবে স্ক্যান্ডেনেভিয়ান ও উত্তর ইউরোপের দেশে। প্রতি ১০টি চাকরির মধ্যে চারটি চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হবে সেখানে। তবে এই লোভনীয় চাকরির মধ্যে ক্ষুদ্র একটি অংশ চাকরি পাবে চীন ও ভারতের বাসিন্দারা। শিক্ষাখাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের ফলে যারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে তারা ভালো চাকরি পাবে এবং অদক্ষ ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের চাকরি লোপ পাবে।