সারাবছর অসংখ্য অগ্নিকাণ্ডে নেদারল্যান্ডে শতশত মানুষের জীবনহানি ঘটে। ইউরোপের অন্যান্য দেশের মত নিজের দেশের অগ্নিকাণ্ড খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হতাহতের সংখ্যা কমানোর জন্য নেদারল্যান্ড সরকার অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থাকে কম্পিউটারাইজড করার চেষ্টা করছে। নেদারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় অগ্নি নির্বাপন সংস্থার নাম আমস্টারডাম-আমস্ট্ল্যান্ড ফায়ার সার্ভিস। প্রায় দশ লাখ মানুষ এই সংস্থার সেবা পেয়ে থাকে। ২০১২ সালে ১১ হাজারেরও বেশি দুর্ঘটনায় সাড়া দেয় সংস্থাটি। যার গড় হিসাব প্রতিদিন ৩০টিরও বেশি।
অগ্নি নির্বাপনী ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজ করার সাথে সাথে ডাটার আকারটা বেড়ে যাচ্ছে ক্রমবর্ধমানহারে। একটা বৃহত্ আকারের তথ্যভাণ্ডারকে প্রক্রিয়াজাত করা, তথ্য খুঁজে বের করা অথবা ডাটা বিশ্লেষণ যেমন জটিল তেমনি সময়সাপেক্ষ। আমস্টারডাম-আমস্ট্ল্যান্ড ফায়ার সার্ভিসের তথ্য ভাণ্ডারটিও জ্যামিতিকহারে বেড়ে চলেছে। কম্পিউটার, মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সেনসরস (যেমন সিসিটিভি ক্যামেরা) সবকিছু মিলে তথ্য ভাণ্ডার বিরাট আকার ধারণ করেছে। তবে দিনে দিনে অধিক শক্তিশালী কম্পিউটার আবিষ্কার এবং উন্নত সফটওয়্যারের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিসেবার কার্যক্রমেও এসেছে গতিশীলতা।
আমস্টারডাম-আমস্ট্ল্যান্ড ফায়ার সার্ভিসের তথ্য ভাণ্ডারের সাথে সরকারের ডাটাবেজও সংযুক্ত। এই তথ্য ভাণ্ডারের জন্য প্রথম যে কাজটি তারা করেছিলো সেটি হলো সম্পূর্ণ নতুনভাবে একটা রিস্ক প্রোফাইল তৈরি করা। যার মাধ্যমে সব আবাসিক ভবন, রাস্তাঘাট, নৌপথ এবং রেলপথের যাবতীয় ঝুঁকি বের করতে তারা সমর্থ হয়। এটি করতে তাদের বিপুল পরিমাণ ডাটা নিয়ে তাদের কাজ করতে হয়েছে। সফটওয়্যারটি সমগ্র রিস্ক প্রোফাইলকে একটা মানচিত্র আকারে প্রকাশ করেছে। কোথাও অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলে অথবা কোন গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়লে খুবই দ্রুততার সাথে তার উত্স সম্পর্কে যেমন নিশ্চিত হতে পারে তেমনি সময়মত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে তারা জায়গামত যেতে পারে। স্টাফদের প্রশিক্ষণও তারা সেভাবে দেয়। বিশেষ করে আবাসিক এলাকাগুলোতে অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে তারা আগাম সতর্ক বার্তাও দিতে পারে। রিস্ক প্রজেক্ট প্রোফাইল ম্যানেজার ব্যারি ভ্যান্ট পাডজের বলেন, যেখানে ঝুঁকি বা বিপদের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি সেখানে আমাদের তত্পরতাও খুব দ্রুত।
আমস্টারডাম অগ্নি নির্বাপন সংস্থার রিস্ক প্রজেক্ট প্রোফাইল ম্যানেজার ব্যারি ভ্যান্ট পাডজে বলেন, আমরা সবেমাত্র আমাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। গাড়ির ইঞ্জিনে আগুনের সূত্রপাত হলে তা ড্যাসবোর্ডের মাধ্যমে খুব দ্রুত প্রোফাইলে গিয়ে বার্তা পৌঁছে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ডাটা সংগ্রহ করার বিষয়টিও আমরা বিবেচনা করছি। আমাদের এই উদ্যোগে আরো বেশি বিনিয়োগ অদূর ভবিষ্যতে হয়তো বড় ধরনের সুফল বয়ে আনবে।
যুক্তরাজ্যে লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড যে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে সেটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকগুলো খুব সহজে সনাক্ত করতে পারে। ঐ এলাকাগুলোতে তারা নিয়মিত আবাসিক ভবনগুলো পরীক্ষা করে, জনগণকে অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন করে এবং ধোঁয়া সৃষ্টি হলেই এলার্ম বেজে ওঠে।
