বাজারে লবণ ৩০ টাকা কেজি চাষিরা পাচ্ছেন ৪ টাকারও কম

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১৫
কক্সবাজারে চলতি মৌসুমে লবণ উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। বিসিকের হিসাব মতে, ১৫ লাখ ৪৫ হাজার টন লবণ উত্পাদন হয়েছে। অথচ চলতি মৌসুমে উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ লাখ ২০ হাজার টন। অনুকূল আবহাওয়া এবং আধুনিক (পলিথিন) পদ্ধতি ব্যবহারে লবণ উত্পাদনে সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে মনে করে বিসিক। তবে বাম্পার উত্পাদন হলেও মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম কেজি প্রতি ৪ টাকারও কম বলে জানিয়েছেন চাষিরা। যেখানে বাজারে প্যাকেটজাত লবণের দাম কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা। কক্সবাজারস্থ বিসিক লবণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমের শুরুতে বিসিক দেশে লবণের চাহিদা ১৫ লাখ ৬ হাজার টন নিরূপণ করে উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ১৫ লাখ ২০ হাজার টন। গত নভেম্বর মাসে উত্পাদন মৌসুম শুরু হলে ধীরে ধীরে লবণ চাষীরা মাঠে নামে। বর্তমানে দেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৬৫ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হচ্ছে। এরমধ্যে নব্বইভাগের বেশি এলাকা কক্সবাজার জেলায়। কক্সবাজারসহ দেশের কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি মাঠে আটকে সূর্যের তাপে শুকিয়ে লবণ উত্পাদন করা হয়। সাধারণত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লবণ উত্পাদন করা যায়। তবে চলতি মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রা গত ২৫ এপ্রিল ছাড়িয়ে গেছে। কক্সবাজারস্থ বিসিক লবণ প্রকল্পের গবেষণা কর্মকর্তা এটিএম ওয়ালিউল্লাহ জানান, গত ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে লবণ উত্পাদন হয়েছে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে (বৃষ্টি না হলে) প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার টন লবণ উত্পাদন হবে বলে জানান তিনি। লবণ চাষিরা জানান, শনিবার পর্যন্ত তারা কক্সবাজারে নির্বিঘ্নে লবণ উত্পাদন করেছেন। তবে শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে রবিবার উত্পাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খুটাখালীর লবণ চাষি রমজান আলী জানান, চলতি মৌসুমে লবণের বাম্পার উত্পাদন হলেও মাঠ পর্যায়ে লবণের এখন দাম নিম্নমুখী। বাজারে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত লবণ ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হলেও চাষিরা দাম পাচ্ছে ৪ টাকারও কম। তিনি বলেন, শ্রমের মূল্য ও পলিথিনের মূল্য মিলে প্রতিকেজি লবণের উত্পাদন খরচ পড়ে সাড়ে ৩ টাকা থেকে ৪ টাকা। কক্সবাজারস্থ বিসিক লবণ চাষ প্রকল্পের উপ-মহাব্যবস্থাপক সঞ্জিব বড়ুয়া চৌধুরী জানান, গতবছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২ লাখ মেট্রিক টন লবণ আমদানির অনুমোদন দিয়েছিল। সেই সুযোগে ২ লাখ মেট্রিক টনের পর আরো ৬ লাখ মেট্রিক টন লবণ অতিরিক্ত আমদানি করা হয়। গত বছরের আমদানি করা লবণ দেশের বড় বড় কোম্পানির কাছে এখনো মজুদ রয়েছে। এ কারণে এ বছর লবণের দাম কম। তিনি জানান, এসিআই, কনফিডেন্স, মোল্লা সল্ট, ফ্রেশ এখন মাঠ থেকে কোন লবণ কিনছে না। এছাড়া আরও তিনটি ক্যামিকেল কোম্পানি এক থেকে দেড়শ’ টন লবণ ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট’ নামে আমদানি করেছে বলে ধারণা করছে বিসিক। অথচ ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট’ নামে আলাদা কোন লবণ নেই এবং কক্সবাজারে উত্পাদিত লবণ দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারে। বিসিক সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে লবণ উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় আমদানিকৃত মজুদ মিলে উদ্বৃত্ত ইতোমধ্যে ৬ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে গেছে। কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল জানান, কক্সবাজারের লবণ শিল্প এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই শিল্প বছরে অন্তত ৫শ’ কোটি টাকার লবণ আমদানি থেকে দেশকে রক্ষা করছে। তাই লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা উচিত। লবণ আমদানি বন্ধ করে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা যায় বলে মনে করে তিনি।