টাঙ্গাইল-দিনাজপুর-গাইবান্ধায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০৩
টাঙ্গাইল, দিনাজপুর ও গাইবান্ধায় গত শনিবার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে টাঙ্গাইলে ২ শিশুসহ ৬ জন নিহত হয়েছে। এছাড়াও দিনাজপুরে প্রায় পাঁচশ ঘর বিধ্বস্তসহ আহত হয়েছে ২৫ জন। গাইবান্ধায় গাছপালা, ঘরসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা সদর গতকাল রবিবার দুপুর পর্যন্ত ছিল বিদ্যুত্হীন। ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর। টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, জেলায় গত শনিবার রাতে প্রচণ্ড ঝড়ে ঘরচাপা পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো সদর উপজেলার রাঙ্গাচিড়া গ্রামের কাবেল উদ্দিনের পুত্র হাসান (৭) ও আমিরুল ইসলামের কন্যা মোকছেদা (১০)। ঝড়ের স্থায়ীত্ব ছিল ১০-১২ মিনিট বলে জানা যায়। এলাকাবাসী জানান, ঝড়ে সদর উপজেলার কাকুয়া, দাইন্যা, হুগড়া, বাঘিল ও পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের অন্তত ১৬টি গ্রামের কয়েকশ কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয় এবং প্রচুর গাছপালা ভেঙ্গে যায়। এতে বোরো ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফুলবাড়ি (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, জেলার ফুলবাড়িতে গত শনিবার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে শতবর্ষী বট গাছের নিচে চাপা পড়ে এক অজ্ঞাতনামাসহ ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঝড়ে আহত ২৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও দিনাজপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। পরিচয় পাওয়া নিহত দুইজন হচ্ছেন উপজেলার শ্রীহরিপুর গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৭) ও বড়পুকুরিয়া ধুলাওধাল গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে রুহুল আমিন (২৫)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাঁচ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্তসহ প্রায় এক হাজার গাছপালা ভেঙ্গে গেছে। গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, জেলা সদরসহ সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ি উপজেলায় গত শনিবার রাতে শিলা বৃষ্টিসহ কালবৈশাখী ঝড়ে কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছাপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় আধঘন্টার এ ঝড়ে আধাপাকা ইরি-বোরো ধান, কলা, পাট, সবজি, গাছপালা ও কাঁচা ঘরবাড়িসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়াসহ বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ছিঁড়ে পড়ায় বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। বিদ্যুত্ বন্ধ থাকায় গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে প্রকাশিত ৬টি দৈনিক পত্রিকা গতকাল প্রকাশ হয়নি। পীরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, জেলার পীরগঞ্জে গত শনিবার রাতে কালবৈশাখীর ঝড় ও বজ পাতে হেলাল (১৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। সাদুল্লাপুরের পীরেরহাট বারুনীর মেলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ধনশালা গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র । বজ পাতে ঘটনাস্থলেই পুত্র হেলাল নিহত হলেও পিতা সালাম সুস্থ আছেন। এদিকে ঝড়ে উপজেলার আগাম জাতের ইরি-বোরো ধান ও কলার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে । গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে গত শনিবার রাতে উপজেলার ২৫ গ্রামের প্রায় ৩ হাজার ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে। উপড়ে গেছে হাজার হাজার গাছপালা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলমবিদিতর, নোহালী, বড়বিল, কোলকোন্দসহ অন্যান্য ইউনিয়নে কালবৈশাখী ঝড় হয়। তবে ক্ষতির পরিমাণ আলমবিদিতর ও নোহালী ইউনিয়নে সবচে বেশি। আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে শতশত পরিবার। তাছাড়া শিলা বৃষ্টির আঘাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠতি ফসল বোরো ধান, ভুট্টা ও পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরেজমিনে গতকাল আলমবিদিতর, নোহালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কালবৈশাখীর তাণ্ডবের এ চিত্র। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জানান, অনেক পাকা-আধাপাকা ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আংশিক ও সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হবে।