বহুতল ভবন নির্মাণে পৌরসভার অনুমোদনের ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ ছাড়া কোনো বহুতল ভবনের নির্মাণের অনুমোদন দিতে পারবে না পৌরসভা। এজন্য প্রতিটি পৌরসভায় একটি পরামর্শক প্যানেল নির্বাচন করে রাখা হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে বহুতল ভবন নির্মাণে সাভার পৌরসভার অনুমোদনের ক্ষমতা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এদিকে সাভার পৌরসভার দুই প্রকৌশলীর গ্রেফতার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, যে দুইজন প্রকৌশলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা রানা প্লাজার নির্মাণের সময় সাভারে কর্মরত ছিলেন না।
গতকাল রবিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান ইত্তেফাককে বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে কোন পৌরসভাতে ভবন নির্মাণ, নক্সা প্রণয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত বা বিশেষজ্ঞ কোনো পরামর্শক নেই। সাধারণভাবে নির্মাণকারীরা নিজেদের মতো করে নক্সাকারক নিয়োগ দেয়। তাদের যোগ্যতা আছে বা নেই সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনোও সুযোগ নেই। তিনি বলেন, গ্রামীণ পৌরসভাগুলোর অবস্থা আরও নাজুক। এখন উপজেলা সদর থেকে শুরু করে শহরতলীতেও বহুতল ভবন গড়ে উঠছে। পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ এরকম ভবন নির্মাণের অনুমোদনও দিচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানের বিশেষায়িত নক্সাকারক, পরামর্শক নেই।
সচিব জানান, শিগগির প্রতিটি পৌরসভায় ভবন নির্মাণে যোগ্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্যানেল নির্বাচন বাধ্যতামূলক করে আদেশ দেয়া হবে। তবে এসব পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজনীয় খরচ সংশ্লিষ্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে দিতে হবে।
এদিকে সাভার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ইমতেমাম হোসেন এবং সহকারী প্রকৌশলী আলম মিয়াকে গ্রেফতারের ঘটনায় খোদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রশ্ন তুলেছে। নাম প্রকাশ না করে মন্ত্রণালয়ের একজন পদস্থ কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, রানা প্লাজা নির্মাণের সময় বা আগে এর নক্সা প্রণয়ন, অনুমোদন, যাচাই-বাছাই যখন হয়েছে তখন এ দু’জন প্রকৌশলী সেখানে কর্মরত ছিলেন না। এ সময়ে অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সহকরী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, নগর পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল হাসান। এর মধ্যে রফিকুল ইসলাম ও মাহবুবুর রাহমান গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জে কর্মরত আছেন। অপরদিকে পৌরসভার দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, গঠিত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (পৌর) মো. আখতার হোসেনকে প্রধান করে রানা প্লাজা নির্মাণ প্রক্রিয়ায় জড়িত এবং ভবন অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত ছিলেন তাদের কোনো ত্রুটি ছিল কী না সে বিষয়ে তদন্ত করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এর আগে ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সাভার পৌরসভার মেয়রের কাছে ওই ভবন নির্মাণ এবং নকশার অনুমোদন সম্পর্কে তাদের এখতিয়ার এবং এ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়ে পাঠায়। মেয়র মো. রেফাত উল্লাহার পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে দেয়া শর্ত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি মানেনি।
