রানাকে সীমান্ত পার করে দেয়ার জন্য ৭০ লাখ টাকার লেনদেন

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০৪
সাভার রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে ঢাকা থেকে সীমান্ত পার করে দেয়া পর্যন্ত ৭০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। রানাকে গ্রেফতার এড়িয়ে নিরাপদে বেনাপোল সীমান্ত পার করে ওপারে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য এক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর। সাভারের আওয়ামী লীগের দুই নেতা এ অভিযোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ৭০ লাখ টাকা লেনদেনের বিনিময়ে রানাকে সীমান্ত পার করে দেয়ার চুক্তি হয়েছে। এর পেছনে এক এমপি জড়িত বলে তারা দাবি করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় রানা জিরো থেকে হিরো হয়েছেন। যুবলীগ নেতা হিসাবে রানা ক্ষমতার প্রতাপে দখলবাজি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজিসহ এ হেন কোন অপকর্ম নেই যা সে করেনি। এসব সন্ত্রাসীদের লালন করে, সন্ত্রাসী বহর নিয়ে এক এমপি প্রকাশ্যে চলাফেরা করায় সাভারে আওয়ামী লীগ এর অঙ্গ সংগঠন নানাভাবে বিভক্ত। রানা যুবলীগের কোন কর্মী নয় বলে তালিকা তৈরি করা হয়। এই তালিকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেন, রানা যুবলীগের কর্মী নয়। এ প্রসঙ্গে সাভারের ত্যাগী নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বৃহত্ দল। সেখানে কিছুসংখ্যক স্বার্থান্বেষী ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী সেজে চাঁদাবাজি বা মাস্তানি করে টাকা বানানোর কাজে নেমে পড়তে পারে । সাভার পৌর এলাকার সমস্ত বাসিন্দাই জানেন, রানা যুবলীগের নেতা। দলের এক ডজন নেতাকর্মী জানিয়েছেন, রানা যুবলীগের নেতা। রানাকে গ্রেফতার ও তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার তদন্তের সঙ্গে জড়িত একটি সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, রানাকে সীমান্ত পার করে দেয়ার জন্য ৭০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। যারা টাকা নিয়েছে তাদের নাম-ঠিকানা জানা গেছে । তাদেরকেও গ্রেফতার করা হবে বলে ঐ কর্মকর্তা জানান। এ কর্মকর্তার মতে, রানার মূল পেশা অন্যের জমি জবরদখল, জাল জালিয়াতি করে নিরীহ মানুষের জায়গা জমি বিক্রি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা নিরাপদে চালিয়ে যাওয়া। সাভারের রানার শ্বশুর ও পরিবারের সদস্যরা বিএনপির নেতা-কর্মী। আসলে সন্ত্রাসীদের কোন দল নেই বলে ওই কর্মকর্তা জানান। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের একজন ইন্সপেক্টর ও এসআই রানার সোর্স হিসাবে কাজ করেছেন। রানার কাছ থেকে তারা নিয়মিত মোটা অংকের মাসোহারা পেতেন। একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা এর সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, সাভারে ঐ ইন্সপেক্টর ও এসআইয়ের দোর্দণ্ড প্রতাপ ছিল। তারা চেইন অব কমান্ড মানতেন না। তারা শুধু এক এমপির নির্দেশে চলতেন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের এই দুই কর্মকর্তা রানা পলাতক থাকা অবস্থায় তার অবস্থান সম্পর্কে জানতেন। রানা প্রথমে ঢাকা ও আশেপাশে অবস্থান করছিলেন। তখন তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নিলে ঐ দুই পুলিশ কর্মকর্তা রানাকে তা জানিয়ে দেন । এরপর রানা নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হয়। এতে সেই অভিযান ব্যর্থ হয়ে যায়। রানা গ্রেফতারের সংবাদে সাভার পৌর এলাকায় মিছিল বের হয়। মিছিলে ঐ এমপি ও রানার ফাঁসি দাবি করা হয়। এ ব্যাপারে উল্লিখিত এমপি বলেন, রানার সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। কত লোক তার কাছে আসে এবং পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে ও মিছিলে আসে। এত লোকের মাঝে কাউকে সনাক্ত করা সম্ভব নয়। বছরের পর বছর ধরে একজন সন্ত্রাসী তার ছবির সঙ্গে নিজের ছবি দিয়ে পোস্টার লাগাচ্ছে অথচ তখন কেন তাকে আইনের হাতে তুলে দেয়া হয়নি? এ প্রশ্নের জবাবে ঐ এমপি বলেন, রানাকে বার বার নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও সে করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। রানা যুবলীগের কোন নেতা-কর্মী নয় এ ধরনের সাভার পৌর এলাকা যুবলীগের কমিটির একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে পাঠানো প্রসঙ্গে ঐ এমপি বলেন, তিনি এ ধরনের কোন তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাননি।