গতকাল রবিবার সকালেও রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তৃতীয় তলায় নয়জনকে এবং অন্য একটি অংশে সাতজনকে জীবিত পাওয়া যায়, যাদের মধ্যে ১০ জনকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা।
উদ্ধার অভিযানের পঞ্চম দিনে এসে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের অধিনায়ক মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। তিনি বলেন, আমরা এ কয়দিন ভেতরে আটকে পড়া জীবিতদের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি। কাজের প্রথম স্তরেই থেকেছি। কিন্তু কাজের এই পর্যায়ে এসে ম্যানুয়ালি উদ্ধার প্রক্রিয়া কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা তাই ম্যানুয়ালি উদ্ধারের সাথে সাথে কিছু প্রযুক্তির সহায়তা নিতে চাচ্ছি। তৃতীয় তলায় পাওয়া জীবিতদের উদ্ধার করা হলেই ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার শুরু হবে বলে জানান তিনি।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক আলী আহমেদ খান জানান, তৃতীয় তলা থেকে সবাইকে উদ্ধার করতে আরো কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। পুলিশ রানা প্লাজার আশপাশে বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে, যাতে উত্সুকরা ভেতরে ঢুকতে না পারে। বহু স্বজন লাশের খোঁজে পুলিশের ব্যারিকেডের বাইরে অপেক্ষায় আছেন। এর আগে সকালই রানা প্লাজার ধ্বংস্তূপের আশপাশ থেকে উদ্ধারকর্মী ছাড়া সবাইকে সরিয়ে দেয়া হয়। হাইড্রোলিক ক্রেন, ডোজার ও লোডারের মতো ভারী সরঞ্জাম নিয়ে আসা হয় ভবনের সামনের অংশে।
সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সিদ্দিকুল আলম শিকদার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, জীবিতদের উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। যতক্ষণ একজনকেও জীবিত পাওয়া যাবে, ততক্ষণ উদ্ধার কাজ চলবে। শনিবার দুপুরে ও রাতে বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের মধ্যেও জীবিতদের বের করে আনার চেষ্টা চালিয়ে যান উদ্ধারকর্মীরা।
ধসে পড়ার সময় রানা প্লাজার পাঁচটি পোশাক কারখানাসহ ভবনে কত মানুষ ছিলেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজারের কাছাকাছি। ধসে পড়া ভবনের সামনে একটি তথ্য কেন্দ্র রয়েছে, সেখান থেকে সর্বশেষ তথ্য দেয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রয়েছে আরেকটি তথ্য কেন্দ্র।
