উপযুক্ত কর্ম পরিবেশহীন (নন কমপ্লায়েন্ট) পোশাক কারখানার জন্য কোন ব্যাংক ঋণ দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রবিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান এ ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে কোন আবাসিক, বাণিজ্যিক ভবন, স্থাপনা নির্মাণ, ভূমি উন্নয়ন এবং ভবন, এপার্টমেন্ট বা ফ্লোর স্পেস ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ব্যাংকের অর্থায়ন করার ক্ষেত্রে নীতি অনুসরণ ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এসম্পর্কে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ ইন্সপায়ারড্’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ‘এসএমই ব্যাংকিং কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালার প্রধান অতিথি ছিলেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমী (বিবিটিএ) ও বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাভারের রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, আমি কঠোরভাবে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সতর্ক করে বলতে চাই, কোনো নন কমপ্লায়েন্ট পোশাক কারখানা এবং এর মালিককে ঋণ দেবেন না। তাদেরকে একটি টাকাও দেবেন না। এর অন্যথা হলে, আপনাদের দায়বদ্ধ থাকতে হবে। আপনাদের শাস্তিমূলক জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
অনেক পোশাক কারখানার মালিক ব্যাংক ব্যবসার সাথে জড়িত বিধায় নন-কমপ্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠানে ঋণ না দেয়ার বিষয়টি প্রধান নির্বাহীদের নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাভারের বিপর্যয়সহ তৈরি পোশাক শিল্পে সংঘটিত দুর্ঘটনার জন্য মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফার লোভ এবং নিয়ম-নীতি উপেক্ষার দুঃসাহসকে দায়ী করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যাংক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পোশাক কারখানার কমপ্লায়েন্ট প্রতিবেদন সংগ্রহ করুন। সেগুলো পরীক্ষা করে দেখতে হবে। প্রয়োজনে সময়ে সময়ে তদারকিও করতে হবে। কোনোভাবেই অসাধু-মুনাফালোভীদের কারণে পোশাক খাতের ক্ষতি হতে দেয়া যাবে না। তিনি সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে হতাহতদের সাহায্যার্থে সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় এগিয়ে আসার আহবান জানান।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোন আবাসিক, বাণিজ্যিক ভবন, স্থাপনা নির্মাণ, ভূমি উন্নয়ন এবং ভবন, এপার্টমেন্ট বা ফ্লোর স্পেস ক্রয়ের উদ্দেশে ব্যাংকের অর্থায়ন (ঋণ, বিনিয়োগ, ইজারা প্রভৃতি) করার ক্ষেত্রে যথাযথ নীতি অনুসরণ ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। এক্ষেত্রে ভবন নির্মাণ আইন, ১৯৫২, বাংলাদেশ জাতীয় ভবন নীতি, ২০০৬, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭, অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩, বেসরকারি আবাসিক প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা, ২০০৪, এছাড়া অন্যান্য সকল আইন ও বিধিমালা পালন করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমোদন নেয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। নির্মিত, নির্মাণাধীন ভবন বা স্থাপনা, ইতিমধ্যে যেসব স্থাপনায় অর্থায়ন করা হয়েছে সেসব ক্ষেত্রেও এ শর্ত থাকবে। একইভাবে ব্যাংকের নিজস্ব ভবনের ক্ষেত্রেও এসব নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। এ বিষয়ে সকল ব্যাংককে একটি পরিপালন প্রতিবেদন আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে দাখিল করার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
