আফগান প্রেসিডেন্ট দফতরে ‘বিপুল অর্থ’ঢেলেছে সিআইএ

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৩, ২১:০৮
প্রভাব বৃদ্ধির জন্য গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের দফতরের পেছনে শত শত কোটি ডলার ঢেলেছে। স্যুটকেস, ব্যাগ ও প্লাস্টিকের শপিং ব্যাগে ভরে মাসের পর মাস এসব অর্থ দেয়া হয়েছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের বর্তমান ও সাবেক উপদেষ্টাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। “আমরা এসবকে ‘ভূতুড়ে অর্থ’ বলতাম,” বলেন খলিল রোমান। ২০০২ থেকে ’০৫ পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন। “গোপনে এসব অর্থ আসতো, গোপনেই চলে যেত,” বলেন তিনি। সিআইএর প্রভাব ‘কেনার’ জন্য এসব ‘ভূতুড়ে’ অর্থ দেয়া হলেও এসব অর্থ দুর্নীতি বৃদ্ধি ও যুদ্ধবাজ নেতাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। এতে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার কৌশল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন। “আফগানিস্তানে দুর্নীতির সবচেয়ে বড় উত্স ছিল যুক্তরাষ্ট্র,” বলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিমাসে আফগান প্রেসিডেন্টের দফতরে এসব অর্থ পৌঁছে দেয়া হয়। আফগান যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় থেকেই ‘নগদ অর্থ দেয়া’ সিআইএর কাজের প্রধান ধারায় পরিণত হয়। আফগান প্রেসিডেন্টের দপ্তরে দেয়া এসব অর্থ দেশটিতে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সহায়তার বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করেছে বা আফগান গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দেয়া সিআইএর আনুষ্ঠানিক অর্থ সহায়তার নিয়ম ভেঙেছে, এমন নয় বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। এসব অর্থ দেয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আইন ভাঙাও হয়নি বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি। প্রেসিডেন্ট কারজাই ব্যক্তিগতভাবে এসব অর্থের অংশ নিয়েছেন এমন কোনো প্রমাণও নেই বলে আফগান কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন। এসব অর্থ আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলকে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি। এসব অর্থ দেয়ার বিষয়টি জানা ছিল- যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের এমন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব অর্থ দেয়ার মূল উদ্দেশ্য কারজাই ও তার ঘনিষ্ঠ চক্রের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখা এবং প্রেসিডেন্টের বাসভবনে সিআইএর প্রভাব অব্যাহত রাখা, কারণ এরাই আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন কেন্দ্রশাসিত সরকারের সবচেয়ে ক্ষমতাবান অংশ। এসব অর্থের একটা বড় অংশ যুদ্ধবাজ নেতা ও রাজনীতিবিদদের কাছে চলে যেত। এদের অনেকে মাদক ব্যবসা ও কেউ কেউ তালেবানের সঙ্গে জড়িত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা আফগানিস্তানের সরকারকে সংগঠিত অপরাধীদের ক্ষমতার যে বলয়গুলোর বাইরে নিয়ে আসার চেষ্টায় ছিল, সিআইএর সহায়তা সেই বলয়গুলোকেই শক্তিশালী করত। নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সিআইএ আর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটির বিষয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রতিবেদনটির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট কারজাই বা তার দপ্তরের কোনো মন্তব্যও প্রকাশ করেনি নিউইয়র্ক টাইমস।