মেহেরপুরে হত্যা-গুম আতংকে বিএনপির নেতাকর্মীরা

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৬
মেহেরপুরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রতিনিয়ত রাত কাটছে গুম, খুন, অপহরণ, হামলা ও মামলা আতঙ্কে। গত বৃহস্পতিবার মেহেরপুরের গাংনীর ষোলটাকা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও শিমুলতলা গ্রামের রুস্তুম আলিকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে হত্যা করে। এই নিয়ে গত ৪ বছরে ১২ জন বিএনপি নেতা-কর্মীকে খুন করা হয়। গত ১৯ এপ্রিল মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও সোনাপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শমসের আলি মালিথার উপর সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা করে ও পরে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। গত ২১ মার্চ জেলার মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ডাক্তার হামিদুর রহমান হেলাল ও তার মেয়ে কলেজ ছাত্রী হাবিবা খন্দকার সেতুর উপর সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। গত ২৪ এপ্রিল শিমুলতলার রুস্তুমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জেলার গাংনীর বামন্দি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল আলিমকে বামন্দি-তেরাইল সড়কে প্রকাশ্যে বোমা হামলা ও কুপিয়ে হত্যা করে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাগোয়ান ইউনিয়ন বিএনপির নেতা সোনপুর-মাঝপাড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গত ২২ জুন মুজিবনগর উপজেলার নূরপুর বিএনপির নেতা আলামিনকে বোমা হামলা করে হত্যা করা হয়। ২০১১ সালের ২১ মার্চ মুজিবনগর উপজেলা বগোয়ান ইউনিয়ন বিএনপি নেতা রশিকপুর গ্রামের বানারুল ইসলামকে কেদারগঞ্জ বাজারে ওষুধের দোকানের মধ্যে বোমা হামলা করে হত্যা করে। ৫ জুন মায়ামারি বিএনপির নেতা রকিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১০ সালের ২৯ জুলাই মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর ইউনিয়নের বিএনপির নেতা ও ইউপি সদস্য আফসার উদ্দিনকে প্রকাশ্যে আমদহ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গত ৬ জুলাই মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পিরোজপুর ইউপি সদস্য ডাক্তার নজরুল ইসলামকে তার কাঁঠালপোতা গ্রামের বাড়ি থেকে বোমা হামলা করে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। পরে তাকে কালীবকরি খালে গুলি ও জবাই করে খুন করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর আমঝুপি বিএনপি নেতা মায়ামারি গ্রামের সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং ৬ সেপ্টেম্বর মোহাজনপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের বিএনপির কর্মী বাবুকে গুলি করে খুন করা হয়। এছাড়া জেলার ৩ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হন। রাজনৈতিক বিরোধ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরেই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানা যায়।