১৩ দফা না মানলে ৫ মে’র পর সরকার পতন হবে

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৪
আল্লামা শাহ্ আহমেদ শফী ঘোষিত ১৩ দফা দাবি না মানলে ৫ মে’র পর সরকারের পতন হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে হেফাজতের ১৩ দফা বাস্তবায়নের পক্ষে বিভাগীয় শানে রিসালাত মহাসমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম ও ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে ৫মে’র ঢাকা অবরোধ ও ১৩ দফা সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন হেফাজত নেতারা। আনিসুজ্জামান, রাজশাহী অফিস জানান, হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর কমিটির আমীর, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাশেমী বলেছেন, ১৩ দফার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবেন না। তাদের এই দাবিকে উপেক্ষা করা যাবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যখন ইসলাম, কোরান ও মহানবীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছিল, তখন আহমেদ শফী সরকারকে সতর্ক করে বলেছিলেন, এটা ঈমানদারদের দেশ, নাস্তিকদের দেশ নয়। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। গতকাল সোমবার রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানে হেফাজত ঘোষিত ১৩ দফা বাস্তবায়নের পক্ষে বিভাগীয় শানে রিসালাত মহাসমাবেশে প্রধান বক্তার ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী কাশেমীয়া মাদ্রাসার মুহতামিম আলহাজ্ব মাওলানা ছলিম উদ্দিন কাশেমী এই মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। সকাল ১০টা থেকে মহাসমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জোহরের নামাজ ও বিরতির পর দুপুর ২টা ৫ মিনিটে কোরান তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মহাসমাবেশের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে চলে বিকাল পৌনে ৬টা পর্যন্ত। সমাবেশে অধিকাংশ কেন্দ্রীয় হেফাজত নেতা দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করেন। মাওলানা আব্দুল লতিফ নিজামী বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ঈমান-আকিদা ও স্বাধীনতা রক্ষার দাবি নিয়ে হেফাজত ১৩ দফা দাবিনামা পেশ করেছে। স্বাধিকার আন্দোলনের দাবি বাস্তবায়ন অস্বীকার করে আইয়ুব সরকারের পতন হয়েছিল। হেফাজতের ১৩ দফা না মানলে বর্তমান সরকারেরও পতন অনিবার্য। মাওলানা ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যকে দিয়ে আল্লামা শফীর সঙ্গে বেয়াদবি করাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারের মন্ত্রীদের এই বেয়াদবির ফল হবে ভয়াবহ। শেখ হাসিনা বেয়াদবি করেন আর না করেন, কসম খেয়ে বলছি, ৫ মে’র আগে কিচ্ছু করবো না। ১৩ দফা না মানলে ৫ মে’র পর সরকারের পতন হবে। আর মাহমুদুর রহমানের মুক্তি না দিলে ৫ মে হবে সরকারের শেষ দিন। মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, যেসকল নাস্তিক কোরান ও ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে হবে। ক্ষমতায় এসে যারা ইসলাম ও রাসুলের (সাঃ) বিরোধিতা করবে তাদের পিঠের চামড়া রাখা হবে না। মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান ইসলামের পক্ষে, হেফাজতের পক্ষে, আলেম-ওলামাদের পক্ষে। তাই তাকে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় সরকার পালাবার পথ পাবে না। অন্যদিকে, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ১৩ দফা বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজির অপসারণ ও কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানান। তিনি আরো বলেন, মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় ঘরে ঘরে আগুন জ্বলে উঠবে। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ৫ মে’র জন্য প্রস্তুত হন। ওই দিন দেখিয়ে দেয়া হবে। ওইদিন প্রশাসনকেও মোকাবেলা করা হবে। হেফাজতের কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা যদি হুকুম দিতে নাও পারি, যার যা আছে, তা নিয়েই সরকারের বিরুদ্ধে ময়দানে নেমে পড়তে হবে। মাওলানা নাজমূল হক বলেন, হেফাজতের ১৩ দফা মানতে হবে। মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, আগামী ৫ মে’র মধ্যে সংবিধান সংশোধন করুন। ১৩ দফা না মানলে ৫ মে হবে সরকারের শেষ দিন। ওইদিন সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। চট্টগ্রাম অফিস জানায়, হেফাজতে ইসলাম নেতারা অভিযোগ করেছেন, নাস্তিক মুরতাদ ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে নবীপ্রেমিক জনতার মহাজাগরণ ঠেকাতে দেশি বিদেশি এজেন্টরা নানা কৌশলে ইসলামের শত্রুদের মাঠে নামিয়েছে। সংযমের মাধ্যমে ১৩ দফার আন্দোলনে অটল থাকার জন্য কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজত নেতারা। গতকাল সোমবার নগরীর খুলশি এলাকায় হেফাজতের মহানগর শাখা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, হেফাজত কর্মীরা ধৈর্য্য ও সংযমের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। তাওহিদী জনতার ঈমানি দাবি ১৩ দফা বাস্তবায়নে আমাদের আরও দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হবে। এই মুহূর্তে আমরা কারও সঙ্গে বিরোধ ও বিবাদে জড়াতে চাই না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলামের মহানগর সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম, মাওলানা লোকমান হাকিম, মাওলানা ইলিয়াস ওসমানী, মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা হাকিম এম.এ. তাহের আরবি, মাওলানা জায়নুল আবেদীন, মুফতি হাসান মুরাদাবাদী, মাওলানা ইমরানুল হক, খন্দকার মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ, মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রব্বানী, মাওলানা মুহাম্মদ তাহের, মুহাম্মদ ইউনুস, আবু রায়হান প্রমুখ। ঢাকায় হেফাজতে ইসলাম নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ৫মে’র ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি বানচালের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে সরকার ঘেঁষা একটি চিহ্নিত মহল। সারা দেশে ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে ঈমানী জাগরণ শুরু হয়েছে। আগামী ৫মে লক্ষ কোটি তাওহিদী জনতার অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশে নাস্তিক্যবাদের শিকড় উপড়ে ফেলা হবে। যদি এতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। গতকাল সোমবার ১০৮/১ কাকরাইলস্থ রমনা জোন হেফাজতে ইসলামের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সভায় রমনা, পল্টন ও কাকরাইল থানার নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে মাওলানা যোবায়ের আহমদকে আহবায়ক ও মুফতী ফয়জুল্লাহকে সদস্যসচিব করে রমনা জোনের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয় এবং সারা দেশের চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১ মে কাকরাইলে রমনা জোনের উদ্যোগে শানে রেসালাত সমাবেশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।