চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে স্থাপিত গার্মেন্টসগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিতে জায়গা ও ভবন খুঁজতে শুরু করেছে গার্মেন্টস মালিকরা। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের অবকাঠামো পরীক্ষা করতে বিজিএমইএ ও বেপজার গঠিত পৃথক কমিটি কাজ শুরু করেছে। তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি সংস্থাগুলো ত্রুটিপূর্ণ ভবনের খুঁজে মাঠে নেমেছে। জানা যায়, সাভারের ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মালিক ও ভাড়াটিয়ারা আতংকের মধ্যে রয়েছে। গার্মেন্টসগুলো খুললেও শ্রমিকদের মধ্যে অজানা আতংক বিরাজ করছে।
বিজিএমইএ সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে প্রায় ৯ শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। অধিকাংশ গার্মেন্টস ভাড়ায় নেয়া আবাসিক ভবনে অবস্থিত। গার্মেন্টস কারখানা স্থাপনের উপযোগী করে এসব ভবন নির্মাণ করা হয়নি। এক একটি ফ্লোরে শত শত শ্রমিক, ভারী বিভিন্ন মেশিনের চাপে ভবনগুলোর অবকাঠামো ক্রমশঃ দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। তারপরেও জোড়াতালি দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ এসব ভবনে গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্প কারখানা উত্পাদন চালু রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে নগরীতে জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে কয়েকটি ভবন সিলগালা করে দিয়েছে। গতকাল সোমবার শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতংকের মধ্যে কারখানায় উত্পাদন শুরু হয়েছে। কয়েকটি গার্মেন্টস কারখানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকালে কর্মস্থলে এসে শ্রমিকরা ভবনের কোথাও ফাটল ধরছে কিনা তা খোঁজ নিতে থাকে। শ্রমিকরা বিভিন্ন কারখানায় তাদের সহকর্মীদের কাছে খোঁজ নিতে দেখা যায়।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে স্থাপিত গার্মেন্টস মালিকদের নতুন জায়গা খোঁজার কথা স্বীকার করে বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘একটি গার্মেন্টস অন্যত্র সরিয়ে নিতে ২/১ বছর সময় লাগবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অবস্থিত গার্মেন্টসগুলো চিহ্নিত করার জন্য আমাদের একটি টীম কাজ করছে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে গার্মেন্টস অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হবে।’ তবে চট্টগ্রামে কোন গার্মেন্টস ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নেই বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, ‘সাভারের ঘটনার পর চট্টগ্রামে কিছু ভবন মালিক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ এমন কাল্পনিক কথা বলে আতংক ছড়াচ্ছেন যাতে পুরাতন ভাড়াটিয়াকে তাড়িয়ে দিয়ে মোটা অংকের অগ্রিম টাকা নিয়ে নতুনভাবে ভাড়া দেয়া যায়। আর ভবনের টেকনিক্যাল পরীক্ষা না করে সরকারি কর্মকর্তারা ভবনে সিলগালা করে দিচ্ছে। এতে জনমনে আতংকের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভাড়াটিয়া গার্মেন্টস মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
এদিকে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় স্থাপিত বিভিন্ন স্থাপনা অবকাঠামো পরীক্ষা করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে বেপজার মহা-ব্যবস্থাপক এসএম আবদুর রশীদ বলেন, ইপিজেডে প্রায় ১৭১টি কারখানা স্থাপনা রয়েছে। ভবনগুলো পরীক্ষা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবেন। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
জানতে চাইলে কারখানা পরিদর্শক (প্রকৌশল) মো. খোরশেদ আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘চট্টগ্রামের গার্মেন্টস কারখানাগুলোর সার্বিক অবস্থা ভালো। কয়েকটি কারখানা ত্রুটিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছি। তাদের নোটিস দেয়া হয়েছে। তবে লজিস্টিক সাপোর্টের অভাবে পরিদর্শন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’
গার্মেন্টসে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক রুহুল আমিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা পরিদর্শন করে ২৯টি গার্মেন্টস চিহ্নিত করেছি। তাদের কি সমস্যা এবং কি করা উচিত তা বলে দিয়েছি। এখন তাদের নোটিস প্রদান করা হচ্ছে।’
